রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিউ কলোনি আবাসিক এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এই অভিযানে ডিএনসিসির 'একশোতে একশো' কর্মসূচির অংশ হিসেবে মশকনিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। সকাল ৯টার দিকে আটটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে তারা নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান শুরু করেন।
অভিযান চলাকালীন এক বাসিন্দার সঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরের সীমানাদেয়ালে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ার পর ওই বাড়ির বৃদ্ধ বাসিন্দা ও তাঁর মেয়েকে সচেতন করার চেষ্টা করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি জানান, ঘরের পাশে জমে থাকা পানি থেকে জন্ম নেওয়া মশা প্রথমে ওই বাড়ির লোককেই কামড়াবে, যার ফলে তাঁদের হাসপাতালে এমনকি আইসিইউ-তে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই সতর্কবার্তায় বৃদ্ধ বাসিন্দাটি জানান, তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর সেখানে বাস করলেও কখনো আইসিইউ-তে যাননি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবের কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে দাবি করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, এই কাজ কি মিউনিসিপ্যালিটির দায়িত্ব নয়? এমনকি হাউজিং কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সরকারি জায়গার পরিষ্কারের দায়িত্বও নিজের নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন ওই বাসিন্দা।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, নিউ কলোনির সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনগুলোর ব্যবস্থাপনা ভালো থাকলেও ভবনগুলোর পেছনের অংশে সমস্যা বেশি। সেখানে কর্মচারীদের আধা-পাকা ঘর এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের স্তূপের কারণে প্রচুর মশার লার্ভা জন্মাতছে। বিশেষ করে ভবন তত্ত্বাবধায়কদের ছোট ঝুপড়ি ঘরগুলোতে এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মশার প্রজননস্থলগুলো চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা। অভিযানে ওয়াসার মিটার বক্স এবং ঘরের কোণে প্লেটে জমে থাকা পানিতে প্রচুর লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডিএনসিসি তাদের 'একশোতে একশো' কর্মসূচি শুরু করেছে। এই বিশেষ পরিকল্পনার অধীনে শহরের ১০০টি চিহ্নিত হটস্পটে ১০০ দিন ধরে প্রতিদিন ১০০ জন করে কর্মী নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান চালানো হবে। এর মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল শতভাগ নির্মূল করাই সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য। ১৯ সেপ্টেম্বরের এই অভিযানটি ছিল কর্মসূচির অষ্টম দিনের কার্যক্রম।




