জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে মসজিদের সামনের খোলা জায়গাটি এখন করলা চাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে কৃষকদের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে। জমি থেকে সদ্য তোলা করলা নিয়ে আসেন তাঁরা, আর পাইকারি ক্রেতারা এসে সেই করলা কিনে নেন। এটি কোনো সরকারি নিলাম বা ইজারাভিত্তিক হাট নয়, বরং গ্রামের ভেতরে গড়ে ওঠা একটি স্বতঃস্ফূর্ত বাণিজ্যকেন্দ্র। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে দেখা যায়, করলা বাছাই করে ব্যাগ আর ক্রেটে ভরার কাজ চলছে, আর পরিবহনের জন্য পাশে দাঁড়িয়ে আছে পিকআপ গাড়ি। আগের দিনের বিক্রির পাওনা টাকা বুঝে নিচ্ছিলেন দুই কৃষক। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন পাইকারি ক্রেতা নিয়মিত এখানে করলা কেনেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই কেনাবেচা, আর পরদিন ভোরবেলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পাঠানো হয় এসব করলা।

গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। সাপ্তাহিক হাটের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না তাঁকে। হাটে গেলে পরিবহন খরচসহ নানা খরচ বেড়ে যেত, যা এখন আর নেই। পাশের বগুড়া শহর থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা বাবু মণ্ডল বলেন, এ বাজারে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলার লেনদেন হয়। তিনি নিজেও অন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত করলা কিনে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা মুরশিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে আশপাশের মাঠে করলার চাষ বেড়ে যাওয়ায় পাইকাররা এখানে আসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে কৃষক ও করলার পরিমাণ বাড়তে থাকায় জায়গাটি এখন করলার পাইকারি বাজার হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

কৃষকদের জন্য এই বাজারটি বিশেষ সুবিধাজনক কারণ নিকটতম চৌমুহনী হাট গ্রাম থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে, যা সপ্তাহে মাত্র দুই দিন বসে — শনিবার ও মঙ্গলবার। আর ক্ষেতলাল পৌরসভার ইটাখোলা হাটের দূরত্ব প্রায় ছয় কিলোমিটার। তাই গ্রামের ভেতরে এই বাজার হওয়ায় করলা চাষিরা যেমন সময় বাঁচাচ্ছেন, তেমনি পরিবহন খরচও জমছে না। ক্ষেতলাল উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসউদ পারভেজ বলেন, উপজেলার ৬০ হেক্টর জমিতে করলার আবাদ হয়েছে। বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামে প্রতিদিন পাইকারি বাজার বসায় কৃষকরা করলার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।