কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় সারের স্বল্পতা ও বিতরণের অব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সারের দাবিতে ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে গুদামের ভেতরে আটকে রাখেন এবং মাদারগঞ্জ-ভূরুঙ্গামারী সড়ক অবরোধ করেন। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলা বাজারের ‘ভাই ভাই মেশিনারীজে’ নামক সার ডিলার পয়েন্টে ওই দিন সকাল ৮টা থেকে সার বিতরণের কথা ছিল। তবে ডিলার ভোর থেকেই সার বিতরণ শুরু করেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তা শেষ হয়ে যায়। ফলে সকাল ৮টার দিকে যারা সার নিতে বাজারে আসেন, তারা সার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই উত্তেজনার মুখে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে তারা একটি গুদামে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পাশাপাশি রাস্তার মাঝে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ এসে ওই গুদামের সামনে পাহারায় থাকে যাতে কর্মকর্তাটি নিরাপদ থাকেন।
বেলা ১২টার দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষকদের সাথে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অবশেষে পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ে রফিকুল ইসলামকে গুদাম থেকে উদ্ধার করে গাড়িতে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনা প্রসঙ্গে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ওই ডিলার পয়েন্টে মোট ৮০ বস্তা সার বিতরণ করা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৭টায় বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু করে সেটি সুষ্ঠুভাবেই শেষ করা হয়। কিন্তু বিতরণ শেষ হওয়ার পর শত শত কৃষক সেখানে এসে জমায়েত হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে অবরুদ্ধ করে সড়ক অবরোধ করা হয়। বেলা ১২টার পর ইউএনও তাকে উদ্ধার করেন বলে তিনি জানান।
কচাকাটা থানার ওসি অর্পণ কুমার জানান, সারের দাবিতে কিছু কৃষক সড়ক অবরোধ করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে তা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, ইউএনও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সার বিতরণ প্রক্রিয়া যথাযথভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল, তবে চাহিদার তুলনায় কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের আরও সার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তারা অবরোধ সরিয়ে নেন। তিনি আরও জানান যে, অতিরিক্ত সারের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই নতুন বরাদ্দ পাওয়া যাবে।




