বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাসনাত হাবিব রিফাত নামের এক যুবককে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। আটক হাসনাত হাবিব খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের পুত্র। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এসআরবি-৬ ও ৮-এর এক যৌথ অভিযানে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে এসআরবি-র প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হাসনাত হাবিব এই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে খুলনা মহানগর পুলিশের হরিণটানা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত হাসনাত হাবিবকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত শুক্রবার রাতের এই নৃশংস ঘটনায় প্রথমে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে আজমল হোসেনকে প্রহার করা হয়। পরবর্তীতে মেসের শিক্ষার্থীদের কাপড় ও টাকা চুরির মতো বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাঁকে আরও পেটানো হয়। চারতলা মেস ভবনের ছাদে চলে যাওয়া এই মারধরের এক পর্যায়ে আজমল নিচে পড়ে যান এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আজমলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায়।
এই নির্মম ঘটনার পর আজমলের বাবা মো. কুতুব উদ্দীন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আটক হাসনাত হাবিব মামলার এজাহারে সরাসরি আসামি হিসেবে নাম না থাকলেও, সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আটক করা হয়েছে।




