কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালো ব্যাজ ধারণ করে শিক্ষার্থীরা একটি মৌনমিছিলের আয়োজন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে এই মিছিলটি আইন ও প্রকৌশল অনুষদ প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে দক্ষিণ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোলচত্বরে ফিরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ ও দাবিগুলো চার দফা কর্মসূচির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত, অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই ঘটনায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলার অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চতুর্থত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারে বিশেষ সাড়া প্রদান ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে পুলিশের দেওয়া আইফোন তত্ত্বকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, কেবল একটি ফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে—এই ব্যাখ্যা তারা মানতে পারছেন না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কিশোর গ্যাং জড়িত থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম তাঁর দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। সেই ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে তাঁর একমাত্র সন্তান অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক নাঈম ভূঁইয়া মনে করেন, গ্রেপ্তারকৃতরা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত এবং এই গ্যাংগুলোর পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা আছে কি না তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সাথে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান কোটবাড়ি ও লালমাই পাহাড়ি এলাকায় অপরাধ দমনে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের মহানগর সভাপতি সাইফ হোসেন দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সোমবারও এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।