রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ মোট চার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন। তদন্তকারী কর্মকর্তার করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের বিস্তারিত তথ্য জানান।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বংশাল ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক রায়হান উদ্দিনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলার অন্য তিনজন আসামি— রাসেল খান, মো. আলা উদ্দিন এবং আব্দুল্লাহ মাসহুর আশরাফীকে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে, যখন যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ চালানো হয়। পুলিশ জানায়, ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে রায়হান উদ্দিনকে শনাক্ত করা হয় এবং গত শনিবার বংশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে রায়হানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাত সোয়া ১২টার দিকে লালবাগের জেন সাহা রোডের একটি বহুতল ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে ইটের খোয়ার বস্তার ভেতর লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো চারটি ককটেল উদ্ধার করা হয়, যা ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল নিরাপদ করে।

তদন্ত চলাকালীন রায়হানের জবানবন্দির ভিত্তিতে ডেমরার ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল, আলা উদ্দিন এবং আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রোববার ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। আদালত প্রথমে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তা বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তবে আদালত রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় গত শনিবার যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জুয়েল রানা বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন।