রাজধানীর ডিআইটি এক্সটেনশন রোডে অবস্থিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিংবিডি ডটকমের বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ নঈমুদ্দীনের বাসায় ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর ভোররাতে এক চুরির ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে চোরেরা বাসা থেকে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ এক লাখ টাকার অধিক মূল্যের সামগ্রী এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন পল্টন থানায় এই বিষয়ে মামলা দায়ের করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক আপ্যায়ন সম্পাদক নঈমুদ্দীন।
মামলার প্রাথমিক তদন্তে পল্টন মডেল থানা পুলিশ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানার গাছুয়া গ্রাম থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে মূল অপরাধীদের শনাক্ত করতে বা কাউকে গ্রেপ্তার করতে তারা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি এসআই বিমান তরফদার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তবে ওই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদীপক্ষ নারাজি জানালে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা-ডিবি-র কাছে হস্তান্তর করেন।
ডিবি-র মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই আমিনুর রহমান এই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করলেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি। ফলে তিনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তীব্র আপত্তি জানান সাংবাদিক নঈমুদ্দীন এবং দাবি করেন যে, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শহীদুল আলম রিজভী আদালতে এই বিষয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই-এর ওপর অর্পণ করেন এবং আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান আদালতের এই আদেশের কথা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিক নঈমুদ্দীন আক্ষেপ করে বলেন, তার বাসা পল্টন মডেল থানার ঠিক বিপরীত পাশে হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ অপরাধীদের ধরতে পারেনি। সন্দ্বীপ থেকে মোবাইল উদ্ধার করলেও সেই ফোনটি কার কাছ থেকে পাওয়া গেছে, তা খতিয়ে দেখে মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ডিবি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই তারা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে দিয়েছে।




