কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের নিয়ে পরচর্চা বা গসিপ করা অনেক সময় সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করলেও, পুরুষদের পেশাগত উন্নতির ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়া এবং ইউনিভার্সিটি অফ নিউ মেক্সিকোর গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অফিসে পরচর্চায় লিপ্ত হন, তাদের দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়; তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই নেতিবাচক ধারণা অনেক বেশি প্রকট।

ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়ায় ম্যানেজমেন্ট এবং উদ্যোক্তাবৃত্তির সহযোগী অধ্যাপক ট্রেভর স্পোয়েলমা জানান, পুরুষরা যখন পরচর্চায় জড়ান, তখন তাদের নারীদের তুলনায় অনেক কঠোরভাবে বিচার করা হয়। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গবেষকরা তিনটি ভিন্ন ধাপের সমীক্ষা চালিয়েছেন। প্রথমে পাঁচ সদস্যের দলে বিভক্ত ২৭২ জন স্নাতক শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫০ জন কর্মীর ওপর দুটি অনলাইন পরীক্ষা চালানো হয়। সবকটি গবেষণাতেই দেখা গেছে, যারা পরচর্চা করেন তাদের সক্ষমতার রেটিং কম থাকে, তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই শাস্তিমূলক মূল্যায়ন অনেক বেশি তীব্র হয়।

এর পেছনে ঐতিহাসিক ও সামাজিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ১৬শ শতাব্দীর পর থেকে পরচর্চাকে মূলত নারীদের সাথে মিলিয়ে দেখা হতো এবং একে নেতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। বর্তমানে যখন কোনো পুরুষ পরচর্চা করেন, তখন তাকে পুরুষালি আচরণের প্রচলিত সামাজিক প্রত্যাশার পরিপন্থী হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে এই আচরণটি দীর্ঘদিনের লিঙ্গভিত্তিক স্টেরিওটাইপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করা হয় বলে মনে করেন স্পোয়েলমা।

তবে পরচর্চা সবসময় নেতিবাচক হয় না। সহকর্মীর প্রশংসা করা বা সাধারণ কোনো গল্প শেয়ার করাও পরচর্চার আওতায় পড়ে, যা অনেক সময় বিশ্বাস এবং একাত্মতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে হাইব্রিড কাজের যুগে, যেখানে মুখোমুখি যোগাযোগের সুযোগ কম, সেখানে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক আলাপন সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক গড়তে এবং একাকীত্ব কাটাতে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সামাজিক নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে পুরুষরা সাধারণত ছাড় পেলেও, পরচর্চার ক্ষেত্রে তারা বিশেষ ছাড় পান না।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী নেতা এই অভ্যাসের তীব্র বিরোধী। ভার্জিন গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিলিয়নেয়ার রিচার্ড ব্র্যানসন স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি অন্যের সম্পর্কে খারাপ কথা বলা পছন্দ করেন না এবং এমন কথা শুনলে তিনি সেখান থেকে সরে যান। একইভাবে ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা রে ডালিও মনে করেন, কারও পেছনে কথা বলা সম্পূর্ণ অনুৎপাদনশীল কাজ। তার মতে, কারও ভুল থাকলে তা সরাসরি তাকে জানানো উচিত, অন্যথায় সেই ব্যক্তি নিজের ভুল সংশোধনের সুযোগ পায় না। অন্যদিকে, পার্সোনাল ফাইন্যান্স রেডিও শো হোস্ট ডেভ রামসে তার কোম্পানিতে 'নো গসিপ' নীতিকে একটি মূল মূল্যবোধ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, পরচর্চার অভ্যাস থাকলে তিনি সরাসরি কর্মী ছাঁটাই করতে দ্বিধা করবেন না। তার মতে, অভিযোগ বা নেতিবাচক কথাগুলো কেবল ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে জানানো উচিত, সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।