পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জের বেড়িবাঁধ এলাকায় এখন সারি সারি প্যাডেল চালিত রিকশা পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। মূলত ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাপক প্রসারের ফলে ঐতিহ্যবাহী এই পায়ে চালিত রিকশাগুলোর চাহিদা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে রিকশা গ্যারেজ মালিকরা এখন চরম সংকটের মুখে পড়েছেন।

ফরাশগঞ্জে অবস্থিত কাসেম ভাণ্ডারির গ্যারেজের উদাহরণ দিলে দেখা যায়, সেখানে এখনো প্রায় ৮০টি প্যাডেল রিকশা রয়েছে। তবে চালকের অভাবে এই রিকশাগুলোর একটি বড় অংশ এখন অলসভাবে গ্যারেজে পড়ে থাকে। গ্যারেজ মালিকের দাবি, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত প্যাডেল রিকশা চালানোর বিনিময়ে চালকদের জমার খরচ ছিল ১৫০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ১০০ টাকা ভাড়াতেও পর্যাপ্ত চালক পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে এখনো কিছু চালক এই পেশায় টিকে আছেন। যেমন, আমানুল্লা নামের এক চালক সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে কাসেম ভাণ্ডারির গ্যারেজে সেটি জমা দিয়ে যান। তার হিসাব অনুযায়ী, সারা দিনে তার আয় হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢাকায় রিকশা চালানো অভিজ্ঞ চালক জাহেদ আলীও এখনো এই গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রিকশা চালালে গ্যারেজ মালিককে মাত্র ৫০ টাকা দিতে হয়, যা আগের তুলনায় অনেক কম। সামগ্রিকভাবে, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দাপটে পুরান ঢাকার রাস্তায় প্যাডেল রিকশার অস্তিত্ব দিন দিন ম্লান হয়ে আসছে।