যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল আল-সাইদ। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে তাঁর জীবনসঙ্গিনী এবং চিকিৎসক সারাহ জুকাকুর অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ডেট্রয়েটে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে সারাহর আবেগঘন বক্তব্য তাঁকে সাধারণ মানুষের নজরে নিয়ে আসে। সেখানে তিনি স্বামীর সততা ও চারিত্রিক দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, আবদুল জনসমক্ষে যেমন, ব্যক্তিগত জীবনেও ঠিক তেমন। তাঁর বিশ্বাস ও কথা সব জায়গায় এক, যা তাঁকে অন্যান্য রাজনীতিকদের চেয়ে আলাদা করে তোলে। সারাহ হাস্যরসের সাথে উল্লেখ করেন যে, কোনো বড় কর্পোরেশন বা বিলিয়নিয়ার আবদুলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তবে মাঝে মাঝে তিনি নিজেই হয়তো তা করতে পারেন।
৪২ বছর বয়সী আবদুল আল-সাইদ ৩ নভেম্বর রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এই গৌরব অর্জন করেন। ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। আবদুল এবং সারাহ—উভয়েরই জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানে। ২০০০-এর দশকের শুরুতে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। বন্ধুত্বের পর প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তাঁরা। সারাহ যখন প্রথম বর্ষের ছাত্রী, তখনই আবদুল তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ২০০৬ সালের মে মাসে তাঁদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে আবদুল বিশ্বাস করেছিলেন, একসঙ্গে বেড়ে ওঠার মাধ্যমেই একটি মজবুত সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়।
পেশাগত জীবনে সারাহ জুকাকু একজন অত্যন্ত মেধাবী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ২০১৫ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাগেলোস কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান আরবার ক্যাম্পাসে রেসিডেন্সি সম্পন্ন করে বর্তমানে তিনি মিশিগানের অ্যান আরবারে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান হেলথে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন।
সারাহর পারিবারিক ইতিহাস দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের সাথে যুক্ত। তাঁর আদি নিবাস উত্তর কন্নড় জেলার উপকূলীয় শহর ভাটকাল। তাঁর বাবা ডা. তাইয়েব জুকাকু একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ এবং দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ছিলেন একজন প্রথিতযশা আইনজীবী ও রাজনীতিক, যিনি একসময় মহীশূর রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আবদুল মিসরীয় বংশোদ্ভূত এবং সারাহ ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ায় তাঁদের সংসারে আরব ও দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটেছে। আবদুল নিজেই একবার মজা করে বলেছিলেন যে, ২০ বছর দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারের সাথে থাকার ফলে তিনি এখন আরবের চেয়ে ভারতীয়ই বেশি হয়ে গেছেন। তাঁদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে—আট বছর বয়সী এমালি এবং তিন বছর বয়সী সেরিন। সাধারণত তারা ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনে সারাহ স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর রাজনৈতিক সততার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আবদুল যেভাবে তাঁর পরিবারের যত্ন নেন, নির্বাচিত হয়ে মিশিগানের মানুষের পাশেও ঠিক সেভাবেই থাকবেন।




