ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চার দিন ধরে পরিচালিত চীনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের প্রশাসন ভবনের সেমিনার হলে এই সমাপনী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। গত ৩ নভেম্বর থেকে ১১ সদস্যের এই বিশেষ দলটিতে চীনের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা হাসপাতালে আসা রোগীদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান এবং ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শুক্রবার এই সেবামূলক কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউয়িন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাযহারুল শাহিন এবং অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র সরকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। লিউ ইউয়িন তার বক্তব্যে এই আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে চীন ও বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ঢামেক হাসপাতাল এবং চায়না-বাংলাদেশ পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডক্টরস অ্যালুমনাই অ্যাসোসিয়েশনসহ স্বাস্থ্য সহযোগিতায় পাশে থাকা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মাযহারুল শাহিন সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে এই তিন দিনের সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে বিরল এমন অনেক রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাওয়া যায়। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, বইতে বর্ণিত প্রায় সব ধরণের রোগই এই হাসপাতালে দেখা যায় এবং এখানে আসা রোগীদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও তারা কখনোই ভুল চিকিৎসা বা দুর্ব্যবহারের শিকার হন না।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফরহাদ হোসেন জানান, চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে আসা এই বিশেষজ্ঞ দল ইনডোর ও আউটডোর উভয় বিভাগেই বিপুল সংখ্যক রোগী পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান বিনিময়, সেবার মানোন্নয়ন এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি স্থানান্তর করা। এই কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সাধারণ দরিদ্র রোগীরা সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও বেশি সার্জিক্যাল ও প্রক্রিয়াগত ইভেন্ট বাংলাদেশে আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা পায়।




