যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফেডারেল রেজিস্টারে সম্প্রতি প্রকাশিত এক নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফার্স্ট স্টেপ অ্যাক্টের আওতায় বন্দিরা আরও বেশি ক্রেডিট অর্জন করতে পারবেন, যার ফলে তাদের মুক্তির সময়সীমা কমে আসবে। এই উদ্যোগের ফলে কারাগারগুলোর ভিড় কমবে এবং সংশ্লিষ্ট খরচও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
নতুন এই নিয়মটি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এতে মোট ৫৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সাশ্রয় হবে। কারণ, বন্দিদের আগে মুক্তি দিলে তাদের থাকা, খাওয়া ও অন্যান্য পরিচর্যার খরচ কমে আসবে। ফার্স্ট স্টেপ অ্যাক্টটি ২০১৮ সালে প্রণীত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল কারাগারে সাজা কমানোর মাধ্যমে পুনর্বাসন ও অপরাধ হার কমানো।
এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মটি ইতোমধ্যেই কার্যকর হওয়ার পথে। ফেডারেল রেজিস্টারে নিয়মটি প্রকাশের অর্থ হলো, এটি আইনি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হবে। এই নিয়মে বন্দিরা কীভাবে অতিরিক্ত ক্রেডিট পাবেন তার বিস্তারিত বিবরণ থাকলেও তা এখনো জনসমক্ষে পুরোপুরি আসেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভালো আচরণ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা এসব ক্রেডিট অর্জন করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভিড় একটি বড় সমস্যা। নতুন এই পদক্ষেপ সেই সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। একই সাথে, বন্দিদের দ্রুত সমাজে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগও বাড়বে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কারাগার সংস্কারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
তবে এই নিয়ম নিয়ে কোনো বিরোধিতা নেই তা নয়। কিছু মহল মনে করছে, অপরাধীদের আগে মুক্তি দিলে সমাজে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, যারা ভালো আচরণ ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন শুধু তারাই এই সুবিধা পাবেন, ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আগামী কয়েক মাসে এর প্রভাব বোঝা যাবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়মটি মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




