বাবার রেখে যাওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে পাওনাদারের সন্ধানে নেমেছেন পিরোজপুরের ব্যবসায়ী কাঞ্চন শিকদার। ঘটনাটি শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, যখন কাঞ্চন শিকদারের বাবা আবদুল খালেক শিকদার পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন। পিরোজপুর থেকে ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের আড়তে বিক্রি করতেন খালেক শিকদার। সেখানে রণজিত ঘোষের ‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছিল, যার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা করে সেই ঋণ পরিশোধ করার কথা থাকলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান আবদুল খালেক শিকদার এবং ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি সন্তানদের কাছে এই ঋণের কথা জানিয়ে যান। তবে সে সময় পরিবারের আর্থিক kondisi সচ্ছল না থাকায় ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী কাঞ্চন শিকদার পিরোজপুর সদরে গরু খামার ও মাছের ব্যবসার মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাবার সেই অসমাপ্ত দায় মেটানোর ইচ্ছা থেকে তিনি এখন পাওনাদারের খোঁজ করছেন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গভিটা’ নামক একটি ফেসবুক পেজে এই বিষয়ে পোস্ট দেওয়া হলে বিষয়টি সামনে আসে। কাঞ্চন শিকদার জানান, তিনি তিন মাস আগে স্মৃতি ধরে রণজিত ঘোষের খোঁজে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁর স্মৃতি অনুযায়ী, রণজিত ঘোষ শাঁখারীবাজারে বাস করতেন, যার পাশে একটি মসজিদ ও মন্দির ছিল। বর্তমানে সেখানে বড় বড় দালান তৈরি হওয়ায় পুরনো সেই বাড়িটি খুঁজে পাননি তিনি। তবে তাঁর কাছে সেই সময়ের একটি রসিদ সংরক্ষিত আছে, যাতে ঠিকানা হিসেবে ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’ লেখা রয়েছে।
ওয়াইজঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে এখন আর ‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামে কোনো আড়ত নেই। স্থানীয় এক পুরনো ব্যবসায়ীর মাধ্যমে জানা গেছে, রণজিত ঘোষ একসময় সেখানে ব্যবসা করলেও প্রায় ১০ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। কাঞ্চন শিকদার জানান, একসময় অভাবের কারণে বাবার এই ঋণ শোধ করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু এখন সুযোগ পাওয়াতে তিনি যেকোনো উপায়েই সেই দায় মিটিয়ে দিতে চান। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি এখনও পাওনাদারের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।




