যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর এক বিশেষ অভিযানে আটক হয়েছেন নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল মাকসুদ। গত ৬ নভেম্বর তার কর্মস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে অভিবাসন পুলিশ। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিমউদ্দিন। তার মতে, আজহারুল মাকসুদ দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানসহ সেখানে বসবাস করছিলেন এবং অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম ছাড়া অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। বর্তমানে আজহারুল মাকসুদকে পারোলে মুক্ত করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং তার স্ত্রী ইতোমধ্যে আইনজীবীর সাথে আলোচনা করেছেন। আগামী সোমবার আদালতে তার জামিনের আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা হ্রাস পাবে বলে অনেকের ধারণা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। নির্বাচনের পরদিন থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র তিন দিনে অন্তত ২৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। ইমিগ্রেশন পুলিশের এই ব্যাপক অভিযান চলাকালীন অভিবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জসিমউদ্দিন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজস্ব আইনজীবীর পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি পাসপোর্ট, গ্রিন কার্ড এবং ওয়ার্ক পারমিটের মতো প্রয়োজনীয় নথিপত্র সর্বদা সাথে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৩৯০ মাইল দূরে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের নিকটবর্তী বাফেলো এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অর্ধলক্ষাধিক বাংলাদেশির বসতি গড়ে উঠেছে। স্থানীয় কমিউনিটির সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে ৫১৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, নিউ ইয়র্ক স্টেটের ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা ২ হাজার ৯০০। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রায় ৭৫ শতাংশের বিরুদ্ধেই কোনো ধরনের অপরাধমূলক মামলা ছিল না।