পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরপত্র বা টেন্ডার বাতিলের চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী। এক যুবদল নেতার নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের পর তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে কর্মস্থলে আর ফিরছেন না। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওয়াসিম খান জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুপ্রভা রাণী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি তার দপ্তরে প্রবেশ করেন। তারা কক্ষে ঢুকেই প্রথমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সিসি ক্যামেরার দিক পরিবর্তন করে ফেলেন। এরপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাকে চাপ দেওয়া হয় যেন বর্তমান টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সুপ্রভা রাণীর দাবি, তিনি নিয়ম মেনে ই-জিপি পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ বরাদ্দ দিয়েছেন এবং এতে রাজি না হওয়ায় তাকে অবরুদ্ধ করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি অফিসের বাইরে তাকে 'দেখে নেওয়ার' হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু। তার দাবি, ১০ সেপ্টেম্বর এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, সেখানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। পিন্টুর অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বৈধ ঠিকাদারদের বঞ্চিত করে ঝিনাইদহ থেকে লোক এনে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার স্বামীর মাধ্যমে কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার যোগসাজশের অভিযোগও তোলেন তিনি। পিন্টুর মতে, তারা কেবল নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন, কাউকে অবরুদ্ধ করা বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন এবং দুর্নীতি আড়াল করতেই মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।

হাসপাতালের আরএমও ওয়াসিম খান জানান, যারা টেন্ডার পাননি তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে চেঁচামেচি করছিলেন এবং পরে তিনি সিসি ক্যামেরা ঘোরানো অবস্থায় দেখতে পান, যার পর তিনি থানায় খবর দেন। সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গেলেও অবরুদ্ধ করার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি, তবে কিছু ব্যক্তিকে সেখানে দেখতে পেয়েছিলেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, তার জানামতে সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দরপত্র না পাওয়ার কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন এবং এই ঘটনায় দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।