রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া মাঠে দেশি-বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল ফুড সাপ্লিমেন্ট বা খাদ্য পরিপূরক তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে প্রশাসন। এই কারখানায় তৈরি পণ্যের গায়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো উন্নত দেশের নাম লেখা থাকলেও এর বিতরণ ও উৎপাদন রহস্যজনকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে করা হচ্ছিল। অভিযানে জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে প্রাথমিক ধারণা জানিয়েছেন বাঘা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এই কারখানার প্রায় দুই ট্রাক নকল ওষুধ মাঠেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং আরও তিন ট্রাক মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল এবং বাঘা থানা-পুলিশের সহায়তায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। কারখানাটি ভেতরে থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধের কার্টন এবং উৎপাদন সরঞ্জাম সাজানো ছিল। তবে বড় আকারের একটি ট্যাবলেট প্রস্তুতকারী যন্ত্রের ওজন বেশি হওয়ায় তা সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি, তাই ঔষধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ যন্ত্রটি অকেজো করে দিয়েছেন।
অভিযানটি মূলত রাজধানীর বনানী থানা-পুলিশের একটি অভিযোগের সূত্র ধরে পরিচালিত হয়। পুলিশ 'কারকুমা' নামক একটি পণ্যের তদন্ত করতে গিয়ে এই কারখানার সন্ধান পায়। বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন জানান, জুলাই মাসের একটি মামলার প্রেক্ষিতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জানান, অভিযানে মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি চারজনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪১ ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে কারখানার মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্রটি মূলত অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করত এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিত। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে কিছু প্যাকেটের দাম ২,১৭০ টাকা থেকে ২,৩৯৯ টাকা পর্যন্ত ছিল। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী আফজাল জানান, তারা অত্যন্ত সুকৌশলে বিদেশি ব্র্যান্ডের নকল করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছিল। তবে মোড়কে সরাসরি 'ওষুধ' শব্দটি লেখা না থাকায় নির্দিষ্ট কিছু আইনি জটিলতা থাকলেও অনুমোদনহীন উৎপাদনের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি আধাপাকা বাড়িতে এই কারখানাটি চালানো হচ্ছিল যা বাইরে থেকে সব সময় তালাবদ্ধ থাকত। বাড়ির মালিক হায়দার আলী ঢাকায় কর্মরত। তাঁর পরিবারের দাবি, প্রায় ছয় মাস আগে নাটোরের রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি মাসিক আট হাজার টাকায় বাড়িটি ভাড়া নেন। তিনি 'নাটোর ভেষজ মার্ট' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সের কপি জমা দিয়েছিলেন, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ছিল। তবে অভিযুক্ত রেজাউল করিমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




