কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় এক ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, তার ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছে পুলিশ, যদিও আটক ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত ৮টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা বাজারে। সেখানে আক্তারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামানের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তার বাবা আখতারুজ্জামান রঞ্জন।
এদিকে, মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর রঞ্জন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে মাদক ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ১২ জনের নাম উল্লেখ করে তিনি থানায় অভিযোগ জমা দেন। কিন্তু কটিয়াদীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেই অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে তিনি দাবি করেন। রঞ্জনের আরও অভিযোগ, সকালে যখন তিনি আদালতে গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন, তখন থানা থেকে জানানো হয় যে মামলা গ্রহণ করা হবে। তবে পুনরায় থানায় ফিরে গেলেও ওসি তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেননি।
আখতারুজ্জামান রঞ্জনের দাবি, ওসি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ না করে প্রকৃতপক্ষে আসামিদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন এবং পুরো ঘটনাটিকে ভিন্ন মোড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই ধরনের আচরণে সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং এতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, মামলার বিষয়ে কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে জানান, আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ওই অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। তবে পরবর্তীতে রঞ্জনের ব্যক্তিগত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওসি আর ফোনের উত্তর দেননি।




