কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় মানব পাচারকারী চক্রের সাথে যৌথ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত সেনাসদস্যের নাম মো. তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের পুত্র এবং বিবাহিত ছিলেন। টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত তিতাস এই অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) দেওয়া তথ্যমতে, মানব পাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় পাচারকারীদের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি শুরু হয়। এই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে তিতাস শেখের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। তবে রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়ে যৌথ অভিযান চলাকালীন সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘাতের মুখে তিতাস গুলিবিদ্ধ হন এবং রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তদন্তকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল। তাঁদের উদ্ধারের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী। এই অভিযানটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে দুর্গম এলাকায় চালানো হয়।

এই অভিযানে যৌথ বাহিনী সফলভাবে ৫৭ জন পাচার হওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ওয়ান শুটার গান এবং একটি পিস্তল রয়েছে।