জীবন চলার পথে আমরা প্রায়ই এমন কিছু সন্ধিক্ষণে দাঁড়াই, যেখানে আমাদের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটি হতে পারে বর্তমান ক্যারিয়ার পরিবর্তন করা, কোনো অসুখী সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কিংবা পারিবারিক কোনো জটিলতা সমাধান করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তাড়না আমাদের মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাতটি বিশেষ দিক বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, নিজের অন্তরের অনুভূতি বা মনের কথা শোনার চেষ্টা করুন। কোনো কাজ বা সম্পর্ক নিয়ে আপনার প্রথম অনুভূতিটি কী, তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, অনেক সময় ভালো-মন্দের গাণিতিক হিসাবের বাইরে মন আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। তবে যাদের এডিএইচডি (ADHD) আছে বা যারা অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ, তাদের ক্ষেত্রে কেবল মনের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমন ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করুন। আপনি কেন চাকরি ছাড়তে চান বা কেন সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, তা সংক্ষেপে এবং স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করুন। সমস্যাটি যদি দশটি শব্দের মধ্যে প্রকাশ করতে পারেন, তবে তা সমাধানের পথ সহজ হয়। অস্পষ্ট অভিযোগের চেয়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো সহজ হয় এবং আপনি ভবিষ্যতে ঠিক কী চান, তা পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, আপনার প্রচেষ্টার সীমা নির্ধারণ করুন। কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন যে, আপনি কি আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টাটি করেছেন? কখন বুঝতে হবে যে আর চেষ্টা করে লাভ নেই এবং এখন পরিবর্তন অনিবার্য, সেই সীমারেখাটি বোঝা প্রয়োজন।
চতুর্থত, ভবিষ্যৎ উদ্বেগগুলোকে স্বীকার করুন। নতুন চাকরির ক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা শেখার ভয় বা বিচ্ছেদের পর একাকীত্বের ভয় আসা স্বাভাবিক। এই ভয়গুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে বরং সেগুলো মোকাবিলা করার পূর্বপরিকল্পনা তৈরি করুন। প্রয়োজনে সহকর্মী বা সঙ্গীর সাথে খোলামেল কথা বলুন।
পঞ্চমত, সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিটি কল্পনা করে প্রস্তুতি নিন। যদি নতুন চাকরিটি না পান কিংবা বিচ্ছেদের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, তবে সেই মুহূর্তে আপনি কী করবেন এবং কার সহায়তা নেবেন, তা আগে থেকে ভেবে রাখলে অসহায় বোধ করার সম্ভাবনা কমে যায়।
ষষ্ঠত, প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, তা ভবিষ্যতে কাজে লাগানো উচিত। তবে বিষয়টিকে অতি-সরলীকরণ না করে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সবশেষে, বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি অবশ্যই ব্যক্তিগত হওয়া উচিত, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি একা করার প্রয়োজন নেই। কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বললে অনেক সময় আমরা যুক্তির বিপরীত দিকটি দেখতে পাই, যা চিন্তাধারার স্বচ্ছতা বাড়ায়।
মনে রাখা প্রয়োজন, সময়ের সাথে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনুভূতি পরিবর্তিত হয়। আজ যে সিদ্ধান্তটি সঠিক মনে হচ্ছে, দুই বছর পর তা ভুল মনে হতে পারে, কিংবা এর উল্টোটাও ঘটতে পারে। আমরা প্রায়ই বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে অতীতকে বিচার করি। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার জ্ঞান ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে যতটা সম্ভব শ্রেয় সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা।




