সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে। রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ার ফলে সোমবার থেকেই দূরপাল্লার এবং অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন রুটের এসি ও নন-এসি বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মাগুরাগামী এক যাত্রী মো. রমজান জানান, মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাঁর ভাড়ার পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তেলের দাম বাড়ার চাপ এখন যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে রংপুরগামী যাত্রী রিয়াদুর রহমান জানান, কয়েক দিন আগে যেখানে ৮০০ টাকায় টিকিট কেটেছিলেন, আজ সেখানে তাকে ৯০০ টাকা দিতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দামাদামির পর টিকিট কাটতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, পরিবহন কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিছু বাস কোম্পানির কর্মচারী বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন। পূর্বাশা পরিবহনের এক সহকারীর দাবি, সরকারি নতুন ভাড়ার তালিকা না আসা পর্যন্ত তারা বাড়তি টাকা নিচ্ছেন না। তবে সূর্যমুখী পরিবহনের সহকারী ব্যবস্থাপক ওয়াদুদ হোসেন স্বীকার করেছেন যে, ফরিদপুর, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীসহ সব রুটে ৫০ টাকা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিটি ট্রিপে চার হাজার টাকার বেশি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আবার সাভার পরিবহনের এক সহকারী জানান, শহরের ভেতরে গাবতলী থেকে গুলিস্তানের ভাড়া ৩৫ টাকা হওয়া সত্ত্বেও যাত্রীরা বাড়তি টাকা দিতে রাজি নন এবং সরকারি তালিকার দাবি জানাচ্ছেন।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জি আর শহীদ জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়ার নতুন তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। বিআরটিএ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনার পর নতুন তালিকা ঘোষণা করা হবে। তবে কিছু বাস মালিক ইতোমধ্যে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, তেল পাম্পগুলো বর্ধিত দামে তেল বিক্রি শুরু করেছে, তাই ভাড়া না বাড়ালে বাসমালিকদের বড় ধরনের লোকসান হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে এই অসামঞ্জস্যতা দূর হবে।




