আমেরিকান নাগরিকত্ব কোনো বিক্রয়যোগ্য সামগ্রী নয়—এই অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন কাঠামোর অপব্যবহার বন্ধ করতে প্রশাসন সব ধরনের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে চলবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে State Department ও Department of Homeland Security (DHS)-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘Birth Tourism Prevention Task Force’ বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের ইতিহাস ও ভিসা-সংক্রান্ত উপাত্ত গভীরভাবে পরীক্ষা করছে।
এই যৌথ উদ্যোগের নজরদারির ফলেই প্রথম মাসের মধ্যেই ৬০০-এর বেশি পর্যটক ও অ-অভিবাসী ভিসা বাতিল হয়েছে। ৬ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর অভিযানটি আরও জোরদার হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো—বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসবের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ করে দেওয়া চক্র ও মাধ্যমগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা।
পূর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সচ্ছল মানুষের কাছে সন্তান জন্মদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছিল একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান থাকায় অনেকে সেখানে গিয়ে সন্তান প্রসব করতেন এবং জন্মের পরপরই সেই শিশু মার্কিন পাসপোর্ট পেয়ে যেত। বর্তমানে এই ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অর্জনের প্রবণতা রোধে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে B-1 বা B-2 শ্রেণির ভিজিটর ভিসা গ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া যারা এই অবৈধ যাতায়াত, জাল কাগজপত্র প্রস্তুতকরণ এবং আবাসন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে জড়িত, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
রুবিও তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আমেরিকান নাগরিকত্ব কোনো বাণিজ্যিক পণ্যের মতো বিক্রি করা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে চলা ১৪তম সংশোধনীর বিধান থাকলেও বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে শুধু সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের জন্য সাধারণ ভিজিটর ভিসা পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
State Department আরও সতর্ক করেছে যে, ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় ভ্রমণের উদ্দেশ্য লুকানো বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তা স্থায়ী ভিসা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে এই নতুন নিয়মে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে প্রশাসনের দৃঢ় প্রত্যয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




