চলতি গ্রীষ্মকাল থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল পরিশোধনাগার থেকে শুরু করে অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্মগুলোর গুদাম—এই সব স্থাপনা এখন নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। মস্কোর দাবি অনুযায়ী, এসব খাত থেকে অর্জিত রাজস্ব যুদ্ধের খরচ মেটাতে রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিয়েভের মূল উদ্দেশ্য হলো এই আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেওয়া। ইতিমধ্যে রাশিয়া এসব হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই হামলাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল শনিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিয়েভ রাশিয়ার অর্থনীতির ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কিন্তু এর ফলে তারা নিজেরাই এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যার পরিণাম ভোগ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন ইউক্রেনকে প্রস্তুত থাকতে হবে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে পাল্টা আঘাতের মুখোমুখি হতে।
গত ১৬ আগস্ট মস্কোর কোলেদিনো এলাকায় অনলাইনে কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ড্রোন হামলার পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারীর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের অংশ, যা ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার কারণে দেশটির কৃষিপণ্য রপ্তানির পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে তুরস্কের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মস্কো সেই চুক্তি থেকে সরে আসে। পুতিন অবশ্য দাবি করেছেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না। তাঁর মতে, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ঘাটতি পূরণ করতে রাশিয়া সক্ষম। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
শান্তি আলোচনার প্রসঙ্গে পুতিন আবারও বলেন, রাশিয়া আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু তাঁর স্পষ্ট শর্ত হলো—যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে হবে। অর্থাৎ রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোকে মস্কোর ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ইউক্রেন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলোকে তিনি ‘অবাস্তব’ ও ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এসব প্রস্তাব নয়, বরং মাঠের বর্তমান বাস্তবতাই আলোচনার ভিত্তি হওয়া উচিত।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব রুশ জনগণের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। পেট্রলপাম্পে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে, যা যুদ্ধের আঁচ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মস্কোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।




