জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সাত বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুর করুণ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুটি গত বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল। তিন দিন ধরে বাবা-মা ও স্বজনরা তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও পরিবারের সহায়তায় এক প্রতিবেশীর বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার মধ্যরাতে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযুক্ত জামিনুর ইসলামের বসতঘরে অভিযান চালায়। জানা গেছে, অভিযুক্তের স্ত্রী পুলিশকে জানান যে তাঁর স্বামীর ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পুঁতে রাখা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় জামিনুর ইসলাম (৩২) এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত জামিনুর পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং নিহত শিশুটির বাবার প্রতিবেশী ছিলেন।
সন্তানের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। শোকাতুর বাবা জানান, তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিল এবং নিয়ম মেনে প্রতিদিন স্কুলে যেত। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর আর্তনাদ করে তিনি প্রশ্ন করেন, তাঁর নিষ্পাপ সন্তান কী অপরাধ করেছিল এবং কেন তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হলো। তিনি দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শিশুটির মামাও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানান, খুনের আসামিদের ফাঁসির রায় হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয় না, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানিয়েছেন, উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সঠিক কোনো তথ্য না দিলেও পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।




