ব্যাংক কোম্পানি আইনের লংঘন করে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর ২০ শতাংশের বেশি শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ রাখায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি শওকত আলী চৌধুরী এবং বিচারপতি আব্দুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি, রিট আবেদনকারীর submitted আবেদনটি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এবং ইবিএলের একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার কামরুল ইসলাম জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এই মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মোট ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ নম্বর বিবাদী হলেন শওকত আলী চৌধুরী। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, ইশরাত হাসান এবং বিপ্লব কুমার দাশ।

শুনানির পর আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, প্রচলিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হতে পারেন না। তবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শওকত আলী চৌধুরী ব্যক্তিগতভাবে এবং তার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে মোট ২০.৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করে গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করলেও এখন পর্যন্ত শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ১৯ আগস্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জমা দেওয়া হলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয় যে, শওকত আলী চৌধুরী তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান 'এস এন করপোরেশন'-এর কর্মচারী এবং শ্যালিকাকে ব্যবহার করে মেসার্স আরুশা অ্যান্ড কোং এবং আনিকা শেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজের মাধ্যমে এই শেয়ারগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন। এসব শেয়ার থেকে প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশ জমি কেনার অগ্রিম চুক্তির আড়ালে তার নিজস্ব ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হলে শেয়ার বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বর্তমানে ওই শেয়ারগুলো বিক্রির চেষ্টা চলছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিষ্ক্রিয়তা ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(ক) ধারার ৩ ও ৫ উপধারার সাথে সাংঘর্ষিক কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত শেয়ারের বিষয়ে গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।