বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি উৎসের ক্ষেত্রে গত তিন দশকে অভাবনীয় উন্নতি হলেও বর্তমানে এই খাতটি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্টসিলার মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে হলে এখন 'ফ্লেক্সিবল পাওয়ার' বা চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো ও কমানোর সক্ষমতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির ব্যবহারের মধ্যে একটি যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এনার্জি ট্রানজিশন ফোরাম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা। সেখানে বক্তারা জানান, গত ৩০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জ্বালানির উৎসেও বৈচিত্র্য এসেছে। তবে এখনকার সময়ে তিনটি প্রধান বিষয়—বিদ্যমান সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে এই খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানো প্রয়োজন।

ফোরামের আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং এর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য রাখা যায়, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়। গ্রিড-সহায়ক প্রযুক্তি, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার এবং নমনীয় উৎপাদন ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ওয়ার্টসিলা এনার্জির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের এনার্জি বিজনেস ডিরেক্টর গোরান রিচার্ডসন বিশ্বজুড়ে তাদের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘ ২৮ বছরের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্যাট্রিক ফারকাস বিশ্বব্যাপী বহুমাত্রিক জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা এবং যেসব দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আধিপত্য বেশি, সেখানকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি ফ্লেক্সিবল পাওয়ার উৎপাদন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। অন্যদিকে, ওয়ার্টসিলা এনার্জি সার্ভিসেসের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার উলরিক ফ্রিস বর্তমানের তরল জ্বালানিচালিত কেন্দ্রগুলোকে এলএনজি ও এলপিজি ব্যবহারের উপযোগী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি হাইড্রোজেনসহ আগামী দিনের টেকসই জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়েও তিনি কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ওয়ার্টসিলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জাহেদ হোসেন জানান, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে তারা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন পরিবর্তন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওয়ার্টসিলার সরবরাহ করা ইঞ্জিনভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো এখনো জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এছাড়া বাংলাদেশে তৈরি দক্ষ জনবল বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়ার্টসিলার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেবামূলক কাজে নিয়োজিত থেকে দেশের সুনাম বয়ে আনছেন।