হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এই মানচিত্রের সঙ্গে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা সংযুক্ত করেননি তিনি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো একই মানচিত্র পোর্ট করলেন ট্রাম্প। এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিকে ‘খুব শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে ট্রাম্পের এমন বিতর্কিত অবস্থানের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একের পর এক হোঁচট খাচ্ছে তার প্রশাসন। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই তেহরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে সরবরাহকৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। একাধিক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় প্রণালিটি পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্য। এদিকে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর অবরোধ বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন।
গত শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমির অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর ‘খুব শিগগির’ তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বলে ঘোষণা করবেন। তিনি দাবি করেন, ‘হরমুজ প্রণালি মূলত এখন যুক্তরাষ্ট্রেরই এলাকা। আমাদের অবরোধের কারণে আমাদের অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।’ তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত, নাকি এটি তার প্রশাসনের নতুন কোনো পররাষ্ট্রনীতির ইঙ্গিত, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে তেহরান মোটেও ভীত হবে না। হরমুজ প্রণালি চালু বা বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু ইরানের কর্তৃত্বেই নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান। অন্যদিকে, গতকাল প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে, তা সমঝোতা আলোচনার আওতায় পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম শাহরারা নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে আরাগচি আরও জানান, ওমানের সঙ্গে আলাদা আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ে কথা হচ্ছে। তবে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার শুরু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




