সাধারণত মধ্যবয়সী বা বয়স্ক মানুষের হাঁটুর ব্যথার প্রধান কারণ হিসেবে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত বাতকে গণ্য করা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হাঁটুর ভেতরের এবং চারপাশের সূক্ষ্ম কাঠামোর বিভিন্ন সমস্যার কারণেও এই ব্যথা তৈরি হতে পারে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধিভুক্ত বোস্টনের ‘ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন’স হসপিটাল’-এর অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রিচার্ড এম. উইলক জানিয়েছেন, ব্যথার প্রকৃত উৎস খুঁজে বের করে সঠিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য চিকিৎসকদের কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

রোগ নির্ণয়ের প্রথম ধাপে চিকিৎসক রোগীকে কিছু মৌলিক প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে রয়েছে— হাঁটুতে অতীতে কোনো আঘাতের ইতিহাস আছে কি না, ব্যথাটি হাঁটুর ঠিক কোন অংশে (সামনে, পেছনে, ভেতরে নাকি বাইরে) হচ্ছে এবং ব্যথার বিস্তার কি কোমর বা পায়ের পাতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে কি না। এছাড়া হাঁটু ভাঁজ করার সময় কোনো শব্দ হওয়া বা হাঁটু ‘লক’ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ আছে কি না এবং সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা বা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর ব্যথা বাড়ে কি না, তা যাচাই করা হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্বের পর শুরু হয় নিবিড় শারীরিক পরীক্ষা। ডা. উইলকের মতে, প্রথমে হাঁটুর চারপাশের ফোলাভাব এবং হাঁটু সোজা ও ভাঁজ করার স্বাভাবিক ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। বিভিন্ন কোণে পা নাড়াচাড়া করে লিগামেন্টের স্থায়িত্ব এবং নির্দিষ্ট কোনো স্থানে চাপ দিলে ব্যথা (টেন্ডারনেস) হয় কি না, তা দেখা হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষার পর সাধারণত এক্স-রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এক্স-রের মাধ্যমে উরু ও পায়ের নিচের হাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়; এই স্থানটি সংকীর্ণ হলে তা কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি ক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। তবে লিগামেন্ট, টেন্ডন বা মেনিসকাসের মতো নরম টিস্যুর সমস্যা এক্স-রেতে ধরা পড়ে না, তাই সেক্ষেত্রে এমআরআই-এর প্রয়োজন হয়। সাধারণত ফিজিওথেরাপি, নির্দিষ্ট ব্যায়াম এবং প্রদাহনাশক ওষুধের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং এতে উন্নতি না হলে তবেই এমআরআই করানো হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘রেফার্ড পেইন’ বা স্থানান্তরিত ব্যথা। অনেক সময় হাঁটুর সমস্যা না থাকলেও কোমর বা হিপ জয়েন্টের সমস্যার কারণে স্নায়ুর মাধ্যমে ব্যথা হাঁটুতে অনুভূত হতে পারে। এই কারণে হার্ভার্ডের চিকিৎসকেরা হাঁটু পরীক্ষার পাশাপাশি কোমর এবং গোড়ালির জয়েন্টগুলোও পরীক্ষা করেন।

হাঁটুর ব্যথার চারটি সাধারণ কারণ হিসেবে ডা. উইলক উল্লেখ করেছেন: ১. অস্টিওআর্থ্রাইটিস (তরুণাস্থি ক্ষয়ে হাড়ের ঘর্ষণ), ২. মেনিসকাস ইনজুরি (হাঁটু মুচড়ে সি-আকৃতির তরুণাস্থি ছিঁড়ে যাওয়া), ৩. টেন্ডিনোপ্যাথি (অতিরিক্ত পরিশ্রম বা স্পোর্টস ইনজুরিতে টেন্ডনের প্রদাহ) এবং ৪. লিগামেন্ট ইনজুরি (শক্তিশালী লিগামেন্টের প্রসারণ বা গুরুতর আঘাত)।