ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ২০২৭ সালে বিশ্বের কোথায় কোথায় ঘুরে আসা যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে সেরা ২৫টি গন্তব্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে প্রখ্যাত ওয়েবসাইট ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’। ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নরওয়ের ভেস্টল্যান্ডে ফিয়র্ড অভিযান এবং সুস্থতাকেন্দ্রিক ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে রেইনফরেস্টের পথ ধরে হাঁটা এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বাদ নেওয়া যাবে। মিসরের লুক্সরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত জাদুঘর ভ্রমণের পাশাপাশি সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন (উইসকনসিন)-এ হ্রদকেন্দ্রিক অ্যাডভেঞ্চার ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া যাবে, আর ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়েতে শিল্প ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখা মিলবে। এছাড়া মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে রেলপথের ইতিহাস এবং মিজৌরি ও আরকানসাসের সাদার্ন ওজার্কসে রোমাঞ্চকর প্রকৃতিভিত্তিক অভিযানের সুযোগ রয়েছে।

সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিতে পুয়ের্তো রিকোর ঐতিহ্যবাহী আয়োজন, জাপানের নিগাতায় ব্যতিক্রমী আর্ট ফেস্ট এবং চীনের চেংদুতে তিন হাজার বছরের পুরোনো এক রাজ্যের ইতিহাস অন্বেষণ করা যাবে। ভারতের জয়পুরে ৩০০ বছরের প্রাচীন প্রাসাদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাহিত্য উৎসব উপভোগ করা সম্ভব। এছাড়া ব্রাজিলিয়ান সংস্কৃতির বড় উৎসবের জন্য সালভাদর এবং স্পেনের সান্তান্দেরে রেইনা সোফিয়া জাদুঘরের নতুন শাখার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জাগরণ অনুভব করা যাবে।

শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিস অ্যান্ড গ্যালোওয়েতে তারাময় আকাশ দেখার সুযোগ রয়েছে। ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের মুগ্ধ করা প্রাকৃতিক দৃশ্য ও প্রাচীন ইতিহাস পর্যটকদের আকর্ষণ করবে। কানাডার হ্যালিফ্যাক্স আটলান্টিক অঞ্চলের ইতিহাস তুলে ধরার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, আর্মেনিয়ার ট্রান্সককেশীয় ট্রেইলে দীর্ঘ পায়ে হাঁটাপথ ধরে বুনো প্রকৃতি আবিষ্কার করা যাবে।

এছাড়া তালিকাটিতে রয়েছে গ্রেনাডার সুস্থতাকেন্দ্রিক উৎসব, চিলির কেপ ফ্রোওয়ার্ডের নতুন জাতীয় উদ্যান, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন এবং জার্মানির লাইপজিগের সংগীত ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ পরিবেশ। আফ্রিকার মালাবিতে ভিড় এড়িয়ে বন্যপ্রাণীর রোমাঞ্চ পাওয়া যাবে। মেক্সিকোর মায়া কা’আনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং পোল্যান্ডের ত্রিসিটি অঞ্চলের (গডানস্ক, সোপোট ও গডিনিয়া) প্রাণবন্ত নগরজীবন ও খাবার পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। সবশেষে, পেরুর কুয়েলাপে ‘উত্তরের মাচু পিচু’ হিসেবে পরিচিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে ঐতিহাসিক অভিযানের সুযোগ রয়েছে।