পুরান ঢাকার স্মৃতি এবং স্থাপত্যের এক অনন্য সংমিশ্রণে সাজানো হয়েছে স্থপতি রফিক আজমের একক প্রদর্শনী ‘থ্রেশহোল্ড: আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার’। ধানমন্ডিস্থ বেঙ্গল শিল্পালয়ের কামরুল হাসান প্রদর্শনী কক্ষে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত শুক্রবার বিকেলে বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থপতি জালাল আহমেদ এবং স্থপতি অধ্যাপক শামসুল ওয়ারেস। শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান ও তাইয়্যেবা বেগম লিপি এই প্রদর্শনীর কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
লালবাগে জন্ম নেওয়া রফিক আজম তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্থান পুরান ঢাকার পরিবর্তনগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়নের করুণ চিত্র, বৃক্ষহীন রুক্ষ পরিবেশ এবং নাগরিক জীবনের নানা বৈপরীত্য ফুটে উঠেছে। রেখাচিত্রের মাধ্যমে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন প্রাচীন দালানকোঠার খিলান, কার্নিশ ও প্রাচীর এবং শহরের আকাশে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের তার। এর পাশাপাশি নদীতীরের নৌকার বিভিন্ন অবয়ব এবং পুরোনো দিনের হাতে টানা ও প্যাডেল রিকশার চিত্র এখানে স্থান পেয়েছে। এছাড়া ঢেউখেলানো গাছের শাখা-প্রশাখার রেখাচিত্র প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রদর্শনীর শুরুতেই দেয়ালে দেখা যাচ্ছে স্থাপত্যের বড় নকশা এবং কালি-কলমে আঁকা বিভিন্ন রেখাচিত্র। জলরঙের কাজগুলোতে বিমূর্ত শৈলী এবং সাদা-কালোর রহস্যময় আলো-আঁধারির খেলা লক্ষ্য করা যায়। কেবল চিত্রকর্মই নয়, ব্যক্তিগত বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্থাপত্যনকশা, আলোকচিত্র এবং স্থাপনার মডেলও প্রদর্শিত হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত বিস্তারের চিত্রও এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রদর্শনী কক্ষের মেঝের এক বড় অংশে খসড়া নকশা, নকশার খাতা এবং লেখালেখির খাতা দিয়ে একটি স্থাপনাশিল্প তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পাশের দেয়ালে একটি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে রফিক আজম তাঁর স্থাপত্য ও শিল্পভাবনার অভিজ্ঞতা দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন রফিক আজম। এটি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে তাঁর তৃতীয় একক প্রদর্শনী; এর আগে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে ‘নেচার ইজ’ এবং ‘ওয়াটার ইন লাইট’ শিরোনামে দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর কাজ নিয়ে ইতালির স্কিরা ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘আর্কিটেকচার ফর গ্রিন লিভিং’ নামক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। স্থাপত্যকলায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘লিডিং ইউরোপিয়ান আর্কিটেক্ট’ সহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন। আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।




