রাজধানীর গুলশান এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আকস্মিক মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৪০ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে দুপুরে পুলিশ জানিয়েছিল, এই ঘটনায় ৩২ জন আটক হয়েছে। ফলে দুই ধাপে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়াল ৭২ জনে।
গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ৮০ থেকে ১০০ জনকে রাখা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার দুপুরে গুলশান থানা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন দুটির নেতা-কর্মীরা সমবেত হয়ে মিছিল করেন। ওই সময় সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয় এবং দুইজনকে সেদিনই আটক করা হয়েছিল।
মামলার তদন্তে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মিছিলের মূল পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবশ্যক ছিল। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন পূর্বে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এদিকে গুলশান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এলাকায় টহল দিচ্ছে। পুলিশের ধারণা, মিছিলে অংশ নেওয়া আরও অনেকেই পলাতক রয়েছেন। তাঁদের ধরতে অভিযান চলছে। মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




