সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে রোববার বিকেলে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, দিনের আলোতে দলীয় কাজ করার ছদ্মবেশে রাতের অন্ধকারে চক্রান্ত করে চারজন এমপিকে হারানো হয়েছে। এসময় তিনি সবার কাছে নিজের রেকর্ড থাকার কথাও জানান এবং প্রয়োজনে একান্তে আলোচনার প্রস্তাব দেন।
গত নির্বাচনে সাতক্ষীরার সব কটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই জেলার দায়িত্ব পেয়ে বিভিন্ন স্তরে বৈঠক করেছি এবং কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি। আপনারা চারজন সংসদ সদস্যকে হারানোর মূল কারণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দিনে বিএনপি করে রাতে গুপ্তদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন—এই আমলনামা আমার কাছে আছে।’
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এই ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে হলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেই হবে। নির্বাচনে দল যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, তাকে জেতাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘রাজনীতি অত্যন্ত নিষ্ঠুর জায়গা—যে ব্যক্তি দলের পাশে না থাকে, তার সারাজীবনের অর্জন এক মুহূর্তে বিনষ্ট হতে পারে।’
একই সঙ্গে আইনমন্ত্রী দলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়া নেতাদের ‘আমি’ শব্দ ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমিই সব করেছি, আমিই ত্যাগ স্বীকার করেছি—এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দলের মূল শক্তি হলো “আমরা”। জিয়াউর রহমান বলেছেন, ব্যক্তি বড় নয়, দল বড়; দলের চেয়ে দেশ বড়। “আমরা” না বললে সাতক্ষীরা বিএনপি কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’
এছাড়া চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, যত বড় ত্যাগী বা দলপ্রাণ নেতা-কর্মীই হোন না কেন, এসব অপরাধে জড়ালে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু হাসান ডাবলু এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।




