অনেকেরই অভ্যাস রাতে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করা অথবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সময় কাটানো। ঘুমের সমস্যায় ভুগলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা এবং ঘুমের রুটিন ঠিক করার কথা বলা হয়। বিশেষ করে রাতে হালকা ক্ষুধা লাগলে সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে কলা বেছে নেওয়ার কথা প্রচলিত আছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ঘুমানোর আগে একটি কলা খেলেই কি সত্যিই দ্রুত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত হয়?
কলার পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে। এই উপাদানগুলো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য। পটাশিয়াম মূলত স্নায়ুর কার্যকারিতা, পেশির সংকোচন এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ম্যাগনেসিয়াম পেশি ও স্নায়ুর শিথিলকরণে ভূমিকা রাখে। এই পুষ্টিগুণগুলোর কারণেই অনেকে মনে করেন কলা খেলে ঘুম ভালো হয়।
তবে বাস্তব সত্যটি হলো, কলা কোনো জাদুকরী ঘুমের ওষুধ নয়। কলা থেকে শরীর ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি-৬ পেলেও, ঘুমানোর ঠিক আগে এটি খেলে অনিদ্রা দূর হবে বা ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—এমন কোনো জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই অনিদ্রার চিকিৎসা হিসেবে কলাকে গণ্য করা সঠিক হবে না। তবে রাতে বিস্কুট বা মিষ্টির মতো প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে কলা খাওয়া একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প, যা ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নির্দিষ্ট কোনো খাবারের ওপর নির্ভর করে ভালো ঘুম পাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন। যেমন—প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগা, শোবার আগে মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্যবহার সীমিত করা এবং বিকেল ও সন্ধ্যার পর চা-কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা। পাশাপাশি শোবার ঘরটি শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং দিনের বেলা পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়াও ঘুমের চক্র ঠিক রাখতে সহায়ক হয়।
যদি নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হয়, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় কিংবা পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি দূর না হয় এবং তা দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা আগে থেকেই ঘুমের ওষুধ সেবন করছেন, তারা চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া তা হঠাৎ বন্ধ করা বা পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন। পরিশেষে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রাতে কলা খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রশান্তির ঘুমের জন্য প্রয়োজন সামগ্রিক সুস্থ জীবনযাপন এবং সুশৃঙ্খল রুটিন।




