শনিবার গভীর রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক কৃষক দল নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যদিও সরাসরি কোনো শারীরিক আঘাত পাননি মো. জজ মিয়া, তবুও চরম আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন জৈনা বাজারের পাশে অবস্থিত আরএকে সিরামিকস কারখানার সামনে তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে।
জজ মিয়া গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস একই ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে; তিনি ওই গ্রামের জনাব আলীর সন্তান। হামলার ফলে তাঁর কার্যালয়ের দুটি অংশের কাচ গুলির আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ফলে তাদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কার্যালয়ের ভেতর থেকে স্থানীয়রা জজ মিয়াকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁরা দ্রুত তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শরীরে গুলির কোনো ক্ষত না থাকলেও চরম আতঙ্কে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জজ মিয়া নিজে ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি জানান, রাতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে একা বসে ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ব্যক্তি কার্যালয়ের সামনে এসে থামেন। তারা লেজার লাইট ব্যবহার করে তাঁকে নিশানা করেন। মুহূর্তের মধ্যেই দুই থেকে তিনটি গুলি ছোড়েন দুর্বৃত্তরা। গুলি চালানোর পরপরই তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। গুলির শব্দে তিনি প্রচণ্ড ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




