প্রকৃতির এক বিস্ময়কর কৌশলে ছোট পাখিরা ঘুমের ঘোরেও গাছের ডালে নিরাপদ থাকে, যা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। মানুষ ঘুমের সময় শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেও, ছোট পাখিরা—বিশেষ করে প্যাসারিন বা 'পারচিং বার্ড' প্রজাতির পাখিরা তাদের পায়ের বিশেষ গঠনের কারণে ডালে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে। এই পাখিদের পায়ের সামনে তিনটি এবং পেছনে একটি আঙুল থাকে, যাকে কারিগরি ভাষায় 'হ্যালুক্স' বলা হয়।
করনেল ল্যাব অব অরনিথোলজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যখন কোনো পাখি গাছের ডালে বসে নিজের শরীরের ওজন পায়ের ওপর দেয়, তখন তাদের পায়ের জয়েন্টগুলো স্বাভাবিকভাবেই বেঁকে যায়। এই প্রক্রিয়ায় পায়ের পেছনের টেন্ডন প্রসারিত হয় এবং আঙুলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডালটিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ফলে ঘুমানোর সময় তাদের সচেতনভাবে ডাল ধরে রাখার কোনো চেষ্টা করতে হয় না; পেশিগুলো টেন্ডনকে শক্ত রেখে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
তবে সব প্রজাতির পাখির এই কৌশল এক নয়। যেমন, বক বা ফ্লেমিংগো এক পায়ে ভর দিয়ে আরাম করতে পারে। আবার ইউরোপীয় স্টার্লিং প্রজাতির পাখিরা সবসময় আঙুল দিয়ে ডাল আঁকড়ে ধরে থাকে না, বরং তাদের পা জিনের মতো একটি স্থিতিশীল অবস্থানে থেকে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। ঘুমের সময় তারা সাধারণত এক পা শরীরের কাছে গুটিয়ে নেয় এবং মাথা পালকের ভেতরে গুঁজে দেয়, যা তাদের শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
বাতাসে ডাল দুললেও পাখিরা কেন পড়ে যায় না, তা নিয়ে ২০১৯ সালে একটি গবেষণায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। ম্যান্ডারিন ডায়মন্ড বার্ডের ওপর করা একটি ডিজিটাল মডেল পরীক্ষায় গবেষকেরা দেখেছেন যে, পাখির হাড়, পেশি এবং টেন্ডন একত্রে একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করে। টেন্ডনের এই বিশেষ দৃঢ়তা ছোটখাটো ধাক্কা বা বাতাসের দোলা সামলাতে সক্ষম, যার ফলে তারা নিরাপদে ঘুমাতে পারে। যদিও কাঠঠোকরা বা টিয়ার পাখির পায়ের গঠন এবং বসার ধরন ভিন্ন, তবে সামগ্রিকভাবে এই অনন্য শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যই পাখিদের প্রকৃতিতে টিকে থাকার শক্তি যোগায়।




