দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের একজন ঢাকা এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। একই সময়ে উপসর্গ দেখা দেওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ১১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৫২ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্য প্রকাশ প্রক্রিয়ায় জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এই রোগটির ট্র্যাকিং শুরু হয়। সরকারি পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত ১০০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩ জন ঢাকা বিভাগের। তবে লক্ষণভিত্তিক হিসেবে মৃত্যু সংখ্যা অনেক বেশি; হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৯৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ছয় মাস সময়কালের সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, হামের কারণে মোট ১ হাজার ৪৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বিভাগীয় হিসেবে মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ঢাকা বিভাগে, যেখানে ৪২৬ জন মারা গেছেন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিলেট বিভাগ (১৬৫ মৃত্যু), তৃতীয় রাজশাহী (৯৩ মৃত্যু), চতুর্থ ময়মনসিংহ (৭৭ মৃত্যু), পঞ্চম চট্টগ্রাম (৭৪ মৃত্যু), ষষ্ঠ বরিশাল (৫৯ মৃত্যু), সপ্তম খুলনা (৪০ মৃত্যু) এবং সবশেষে রংপুর বিভাগ, যেখানে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৪৫ জন এসেছেন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৪৪ জন, চট্টগ্রামে ২৬৪ জন, সিলেটে ১৭৭ জন, খুলনায় ১১৭ জন, বরিশালে ১০৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন, রাজশাহীতে ২২ জন এবং রংপুরে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, দেশব্যাপী বিভিন্ন হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৩৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা মোট রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন, যার মধ্যে ২০ হাজার ৩৯৫ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হাসপাতালে আসা সব রোগী বা হাসপাতালের বাইরের সম্ভাব্য আক্রান্তদের সবার পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই সীমাবদ্ধতার কারণে হাম শনাক্ত হওয়া প্রকৃত রোগীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।