নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার হাঁটুভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল হক এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতা দেখিয়ে আসছে। তার বাবা আসাদ মিয়া ও মা শাহানা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান সে। শৈশব থেকেই মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূচনা হয়েছিল রায়পুরার দড়ি হাইরমারা গ্রামে অবস্থিত সাদত স্মৃতি পল্লীর শিশু বিকাশ কেন্দ্রে ভর্তির মাধ্যমে। সেখানে নিয়মিত পাঠদানের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় মাহমুদুল।

শিশু বিকাশ কেন্দ্রে থাকাকালীন ছবি আঁকা ও গান ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। সময়ের ব্যবধানে চিত্রাঙ্কনের প্রতি আগ্রহ আগের মতো থাকলেও গানের প্রতি অনুরাগ আরও গভীর হয়েছে। বর্তমানে তিনি একজন পেশাদার সংগীত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে গান শেখার অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর মাহমুদুল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তার প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে নিজের পছন্দের পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে চায় সে।

এদিকে সাদত স্মৃতি পল্লীর শিশু বিকাশ কেন্দ্রটি শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আবৃত্তি, অভিনয়, ছবি আঁকা, গান ও নাচের তালিম দিয়ে থাকে। প্রান্তিক শিশুদের প্রতিভা বিকাশে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের বাইরেও প্রতিষ্ঠানটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ বিতরণ, বয়স্ক ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি, কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং দরিদ্র নারীদের সেলাই ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।