ব্যাংককে দুটি নাটকের শুটিং শেষে স্থানীয় একটি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সেরে নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। গত বুধবার ব্যাংককের ওই হাসপাতাল থেকেই প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়ে কাজ, জীবন ও নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রীও।
তৌসিফ জানান, শুটিংয়ের পাশাপাশি চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই তিনি ব্যাংককে এসেছিলেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে তার একটি ছবি পোস্ট করা হলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন দুজনের কোনো নতুন কাজ রয়েছে। তবে তৌসিফ স্পষ্ট করে বলেন, ফারিণের সঙ্গে তার কোনো শুটিং ছিল না; বরং দুজনেরই ব্যাংকে আসার মূল কারণ ছিল চিকিৎসা। হাসপাতালের পরিবেশ মন খারাপ করে দেওয়ার কারণে কিছুটা সময় নিজেদের রিফ্রেশ করার জন্যই ওই ছবি তোলা ও পোস্ট করা।
ফারিণের সঙ্গে পর্দায় পুনরায় দেখা যাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমানে ফারিণ পুরোপুরি সিনেমার অভিনেত্রী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি ‘চক্র’ নামের একটি কাজে শেষবারের মতো তাদের জুটি পর্দায় দেখা গেছে। ভবিষ্যতে আবারও একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নিজের কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তৌসিফ বলেন, কোটির বেশি ভিউ পাওয়া কোনো রহস্য নয়, বরং এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। আগে কাজের মধ্যে ব্যস্ততা থাকলেও এখন তিনি কম কাজ করতে পছন্দ করেন। তবে প্রতিটি কাজের প্রতি আগের চেয়ে বেশি সময় ও মনোযোগ দেন। সংখ্যার চেয়ে কাজের মান, চরিত্রের নতুনত্ব এবং দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই তার কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দর্শক খুব সহজেই বুঝতে পারেন কোন কাজটি মন দিয়ে করা হয়েছে, তাই কাজের সংখ্যা কমলেও গুণগত মানের দিকে তার নজর বেড়েছে।
১৩ বছরের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় অপ্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আবেগঘন হয়ে বলেন, প্রখ্যাত লেখক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করতে না পারাটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য ও অপ্রাপ্তি।
শুটিংয়ের সময় নিয়ে সহশিল্পীদের সঙ্গে তুলনার প্রসঙ্গে তৌসিফের মন্তব্য, প্রত্যেক শিল্পীর কাজের ধরন, প্রস্তুতি ও চরিত্রের চাহিদা আলাদা। কেউ দ্রুত কাজ শেষ করতে পারেন, আবার কেউ একটি কাজে বেশি সময় দিয়ে সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাই অন্যের কাজের ধরন নিয়ে মানসিক চাপ না নিয়ে নিজের কাজের সততা ও মান বজায় রাখাকেই তিনি প্রাধান্য দেন। তার মতে, সময়ের হিসাবের চেয়ে কাজের মানই একজন শিল্পীকে দীর্ঘমেয়াদে আলাদা করে।
অভিনয় জগতে নতুন শিল্পীদের নিয়ে হতাশার কথা উড়িয়ে দিয়ে তৌসিফ বলেন, প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব সময় ও লড়াই থাকে। শুরুর দিকের সুযোগ-পরিবেশ এখনকার প্রজন্মের জন্য একেবারেই ভিন্ন। জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ধারাবাহিকতা, পেশাদারত্ব ও দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মানসিকতাই একজন শিল্পীকে নির্ভরযোগ্য করে তোলে। তিনি আশাবাদী, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই ভালো কাজ করছে; তাদের শুধু সময় ও জায়গা দেওয়া প্রয়োজন।
ব্যক্তিজীবনে পরিবারকে সময় দেওয়ার বিষয়ে তৌসিফ বলেন, অবসর খুব একটা মেলে না, তবে সুযোগ পেলেই তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। দিনশেষে পরিবারই সবচেয়ে বড় ভরসা। পরিবারের ছোটখাটো কাজ করাকে তিনি আলাদা কিছু মনে করেন না; বরং এই সাধারণ কাজগুলোই তাকে ব্যস্ত জীবন থেকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনে।
বছরের শুরুতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘ভুলের সংখ্যা কমানোর’ যে কথা বলেছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুলের সংখ্যা কমেছে কিনা তা হিসাব করে বলা সম্ভব নয়, তবে আগের চেয়ে এখন ভুল করার আগে বেশি ভাবেন। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তিনি বুঝেছেন, সব ভুল এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু একই ভুল বারবার করা অবশ্যই এড়ানো সম্ভব।
পারিশ্রমিকের কথা চিন্তা না করলে কোন ধরনের কাজ করতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তৌসিফ বলেন, তিনি এমন সিনেমা বা সিরিজ করতে আগ্রহী যেখানে চরিত্রটি দর্শককে ভাবাবে, হয়তো অস্বস্তিতে ফেলবে কিংবা নিজের সঙ্গে মিল খুঁজে পেতে বাধ্য করবে। বাণিজ্যিকভাবে সহজ বা নিরাপদ নয় এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সবসময়ই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
দীর্ঘ বিরতির পর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ নেহাল চরিত্রে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেহাল তারই সৃষ্টি। তিনি চান আরও অনেক চরিত্রকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে। একজন অভিনেতা হিসেবে চিরকালীন কোনো চরিত্র তৈরি করতে পারার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।




