ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত একটি মসজিদে গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হলো অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক মহসিনা আক্তারের। তাঁর জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন সিনেমাটোগ্রাফার ও মঞ্চকর্মী ইরফান উদ্দিনকে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুজনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পেশাগত সহযোগিতার সম্পর্ক নতুন একটি মাত্রা পেল।

এই যুগলের পরিচয়ের সূত্রপাত হয়েছিল মঞ্চে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে। স্পর্ধা: ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ—এই নাট্যদলের সঙ্গে উভয়েরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে মহসিনা ও ইরফান দুজনেই অন্তর্ভুক্ত। সৈয়দ জামিল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত এই কালেকটিভের মাধ্যমে তাঁদের সৃজনশীল যাত্রার অনেকাংশই এগিয়েছে। বন্ধুত্বের সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মহসিনা তাঁর স্বামীর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলেন, তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ। সমাজ ও মানুষকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি দুজনের মধ্যে একরকম হওয়ায় একসঙ্গে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই মন্তব্যে তাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মূল্যবোধের মিলের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মহসিনা আক্তারের পেশাগত পরিচিতি শুরু হয় ২০১৭ সালে। সৈয়দ জামিল আহমেদের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ ‘রিজওয়ান’ নাটকে ফাতিমা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকমহলে পরিচিতি অর্জন করেন। পরবর্তী বছরে গঠিত স্পর্ধা কালেকটিভের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে তিনিও অন্যতম। অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চনির্দেশনার জগতে তাঁর পদচারণা উল্লেখযোগ্য। ‘তবুও জেগে উঠি’, ‘ইন্দুর-বিলাই খেল’, ‘শেষরক্ষা’ এবং ‘ওয়েটিং ফর লেফটিজ’—এই নাটকগুলো তাঁর নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে। মঞ্চের বাইরেও তাঁর কাজের বিস্তার রয়েছে; ‘জয়া আর শারমিন’ নামের একটি সিনেমাতে তাঁকে দেখা গেছে। অভিনয়জীবনে তিনি ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’, ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’, ‘বিস্ময়কর সবকিছু’ এবং ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’—এই নাটকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনের গুরুত্বও তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে, যা তাঁর চিন্তাভাবনার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে। এই দলটি স্বাধীনভাবে কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, যেখানে শিল্পীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ পান। মহসিনার অভিনয়জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ই এই দলটির সঙ্গে জড়িত।

অন্যদিকে, ইরফান উদ্দিন সিনেমাটোগ্রাফি ও অভিনয়—উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে সক্রিয়। ‘বিনোদিনী’, ‘দ্য টেল অব সাদ’, ‘দ্য সানফ্লাওয়ার’সহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর কাজের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছেন তিনি। মঞ্চনাটকে তাঁর উপস্থিতি ছিল ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’, ‘৪.৪৮ মন্ত্রাস’ এবং ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’-তে। পেশাগত উন্নতির অংশ হিসেবে শিগগিরই তিনি লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচে চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর এই পড়াশোনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

উভয়ের এই নতুন অধ্যায়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের সৃজনশীল সহযোগিতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা যাচ্ছে। মঞ্চ ও পর্দায় তাঁদের যৌথ অবদান ভবিষ্যতেও দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।