বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালার ব্যক্তিগত জীবন আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। প্রয়াত নির্মাতা কমল আমরোহির পুত্র তাজদার আমরোহি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মধুবালার সাথে তাঁর বাবার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পেছনে ছিল একটি কঠোর শর্ত। মধুবালা চেয়েছিলেন, কমল আমরোহি তাঁর প্রথম স্ত্রী সাইয়েদাকে তালাক দিয়ে তাঁকে বিয়ে করুন। এমনকি স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন তিনি বলে জানান তাজদার।

সাংবাদিক ভিকি লালওয়ানির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাজদার বলেন, ১৯৪৯ সালে ‘মহল’ ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁর বাবা ও মধুবালার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তখন কমল আমরোহি বিবাহিত ছিলেন এবং সন্তানের জনক ছিলেন। তাজদারের মতে, সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁর বাবাই। মধুবালা কমল আমরোহিকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা মেনে নেননি। কমল আমরোহি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি গল্প ও সংলাপ বিক্রি করতে পারেন, কিন্তু স্ত্রী-সন্তানকে নয়। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

তাজদার আরও জানান, মধুবালা সেই সময় কেবল জনপ্রিয় অভিনেত্রীই ছিলেন না, আর্থিক দিক থেকেও অত্যন্ত সচ্ছল ছিলেন। তিনি নাকি কমল আমরোহিকে বলেছিলেন, তিনি অর্থ দেবেন, যার মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের আলাদা করে দেওয়া যাবে। তবে কমল আমরোহি সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেন, ফলে দুজনের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটে। তাজদারের ভাষ্য অনুযায়ী, মধুবালার জীবনে আরও আলোচিত প্রেমের সম্পর্ক ছিল, বিশেষ করে দিলীপ কুমারের সাথে। তবে কমল আমরোহির সাথে সম্পর্কটি ছিল খুবই অল্প সময়ের।

তাজদার আরও দাবি করেন, তাঁর মা সাইয়েদা এই সম্পর্কের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। তিনি কেবল জানতেন যে কমল আমরোহি তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘মহল’ নির্মাণ করছেন। চলচ্চিত্র পত্রিকার মাধ্যমে সাইয়েদা জানতে পারেন, কমল আমরোহি অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে বিয়ে করেছেন। এর আগে কমল আমরোহির মেয়ে রুখসার আমরোহিও এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁদের মা গ্রামে সন্তানদের নিয়ে থাকতেন। চলচ্চিত্র পত্রিকায় খবর পড়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি সন্তানদের মীনা কুমারীর সাথে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সন্তানেরা মীনা কুমারীকে ‘ছোটি আম্মি’ বলে ডাকতে শুরু করেন।

কমল আমরোহির ব্যক্তিগত জীবন ছিল ঘটনাবহুল। প্রথম স্ত্রী বিলকিসের মৃত্যুর পর তিনি সাইয়েদাকে বিয়ে করেন। ১৯৫২ সালে অভিনেত্রী মীনা কুমারীকে বিয়ে করলেও সাইয়েদাকে তালাক দেননি। জীবনের শেষ দিকে তিনি তাঁর চিকিৎসককেও বিয়ে করেছিলেন। নির্মাতা হিসেবে ‘পাকিজা’, ‘রজিয়া সুলতান’ এবং ‘মুঘল-ই-আজম’ ছবির সংলাপ রচনার জন্য তিনি স্মরণীয়।

তবে লক্ষণীয় যে, মধুবালা ও কমল আমরোহির সম্পর্ক নিয়ে তাজদার আমরোহির এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত দাবি। মধুবালার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা ঐতিহাসিক প্রমাণ বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই। ফলে এই দাবিকে নতুন আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হলেও, এটিকে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অবলম্বনে।