কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বাড়লেও এর ফলে সৃষ্ট ভুলগুলোর জন্য যেন 'এআই-ই এটা করেছে'—এমন অজুহাত ব্যবহৃত না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক করেছেন অ্যাটলাসিয়ানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইক ক্যানন-ব্রুকস। সিঙ্গাপুর গ্র্যান্ড প্রিক্সের ফাঁকে 'ফরচুন'-এর সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এআই কেবল একটি মাধ্যম মাত্র। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে কোনো কাজ করেন, তবে সেটি আসলে ওই ব্যক্তির কাজ, চ্যাটজিপিটির নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ফলে যেকোনো ভুল বা ত্রুটির চূড়ান্ত জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরই হতে হবে।
এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ৬ অক্টোবর অ্যাটলাসিয়ান 'এজেন্টিক মাল্টিপ্লেয়ার প্রোটোকল' (Agentic Multiplayer Protocol) নামে একটি কন্ট্রোল প্লেন চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এআই এজেন্টরা এখন কর্ম দলের দৃশ্যমান ও নিয়ন্ত্রিত সদস্য হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি এজেন্টের আলাদা প্রোফাইল থাকবে এবং কে কার তত্ত্বাবধানে কাজ করছে তা নির্দিষ্ট করা থাকবে। ফলে কোনো ডকুমেন্টে এআই কোনো পরিবর্তন আনলে, তা ঠিক যেভাবে একজন সহকর্মীর এডিট হিস্ট্রিতে দেখা যায়, সেভাবেই স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হবে। ক্যানন-ব্রুকসের মতে, কে, কখন এবং কী পরিবর্তন করেছে তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে বাজারে মেটা-র 'মিউজ' (Muse) বা ওপেনএআই-র 'ডটস' (Dots)-এর মতো ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই পণ্যগুলো অনেক জটিল কাজ পর্দার আড়ালে সম্পন্ন করে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গোপন রাখে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও পেশাদার কর্মক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে অনুমতি, নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্সের মতো বিষয়গুলো এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো কর্মী যদি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গোপন নথির ওপর ভিত্তি করে কোনো চার্ট তৈরি করেন এবং তা বাইরে পাঠান, তবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
পাশাপাশি, বর্তমান এআই ইন্টারফেসগুলোর নিম্নমান নিয়েও কথা বলেন ক্যানন-ব্রুকস। তিনি মনে করেন, এআই অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও ইন্টারফেসের সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ কেবল মৌলিক কাজগুলোই করতে পারছে। তিনি একে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের টুলবারের সাথে তুলনা করে বলেন, টুলবার না থাকলে যেমন সবাই কেবল প্লেইন টেক্সট ব্যবহার করত, তেমনি সহজ ইন্টারফেস ছাড়া এআই-এর পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যেই ২০২৪ সালে তারা 'রোভো' (Rovo) নামক একটি ইন-হাউস এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করেছে, যা ফিগমা, কোডেক্স বা ক্লড-এর মতো থার্ড পার্টি টুলগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, জিরা (Jira) এবং কনফ্লুয়েন্স (Confluence)-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অ্যাটলাসিয়ান দেশটির টেক ইকোসিস্টেমে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। জুন ৩০ তারিখে শেষ হওয়া প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ১.৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের ১.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলনকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে এআই এবং এন্টারপ্রাইজ বিক্রির দিকে মনোনিবেশ করতে গত মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটি তাদের জনশক্তির ১০ শতাংশ বা প্রায় ১,৬০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভৌগোলিক দূরত্ব মার্কিন বিনিয়োগকারী বা গ্রাহকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে—এমন ধারণাকে তিনি খণ্ডন করেন। তার মতে, অস্ট্রেলীয় কোম্পানিগুলো শুরু থেকেই বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে। অ্যাটলাসিয়ানের প্রথম গ্রাহক ছিল ইংল্যান্ডের এবং দ্বিতীয়টি সুইডেনের। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম অফিস খোলা এবং ২০১৫ সালে নাসডাক-এ তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তারা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি অঙ্গরাজ্যে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দিয়েছে।




