রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের প্রভাব নিরূপণে এবং বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বসবাসের এলাকার বায়ুমান পর্যবেক্ষণে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস এবং শিল্পকারখানার কাছাকাছি অবস্থিত আটটি দূষণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বায়ুমান পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ ভবন প্রকল্পের এক সূচনা সভায় এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। ফাউন্ডেশনের ‘ব্রিদিং ঢাকা’ প্রকল্পের টেকনিক্যাল লিড আহমাদ কামরুজ্জামান মজুমদার জানান, স্থাপিত যন্ত্রগুলো টানা ১২ মাস ধরে বায়ুমানের তথ্য সংগ্রহ করবে। এই তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। সংগৃহীত সব উপাত্ত গবেষণার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে পিএম২.৫ (PM2.5) এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করার একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিশেষ করে যে সব মানুষ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছেন এবং যাদের এলাকাগুলো পরিবেশগতভাবে উপেক্ষিত, তাদের বসবাসের পরিবেশ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর ফলে শহরের বায়ুদূষণের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠবে এবং পরিবেশগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের প্রশংসা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর দেশের পরিবেশ রক্ষায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের এই পদক্ষেপটি ঢাকার বায়ুমান পর্যবেক্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ধরণের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্পের মাধ্যমেই ঢাকা শহরকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকা থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি উল্লেখ করেন, তাদের সংস্থা মূলত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে, আর এই জনগোষ্ঠীই বায়ু দূষণের কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে।

উক্ত সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।