দেশের অভ্যন্তরে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক রোববার রাতে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নতুন মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রাত ১২টা থেকেই জ্বালানি তেলের এই বর্ধিত দাম কার্যকর হতে যাচ্ছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দামও প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও গত পাঁচ মাস ধরে দেশটিতে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তারা আরও জানায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম ছিল।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছে জ্বালানি বিভাগ। তাদের দাবি, গত মার্চের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামের পাশাপাশি ফ্রেইট চার্জের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই প্রবণতা এখনো চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বাড়লেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার এতদিন মূল্যবৃদ্ধি করেনি। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে গত মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।