মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। বেশি মুনাফার আশায় হিমাগারে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে রাখায় প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে গেছে। ৬০ কেজি ওজনের এসব বস্তায় থাকা মোট ২২ হাজার ৫০০ মণ আলুর খুচরা বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। পচে যাওয়া এসব আলু এখন স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করছে হিমাগার কর্তৃপক্ষ, যাতে তা গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
হিমাগার সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত আলুর গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে সংরক্ষণ মৌসুম শুরু থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। তবে মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মীর হাবিবুর রহমান ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু জমা করেন। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তিনি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেগুলো সংরক্ষণ করে রাখেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে রাখার কারণে ধীরে ধীরে আলুর মান নষ্ট হতে শুরু করে এবং পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানান, খোলা জায়গায় ফেলে দিলে জনসাধারণের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হতো। সে কারণে গত পাঁচ দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনা মূল্যে এসব আলু বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
মাদারীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার বলেন, বিনা মূল্যে পচা আলু বিতরণের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে আলুর দাম কমে যাচ্ছে। এ বছর আলুর দাম ইতোমধ্যেই কম ছিল, তার মধ্যে এই বিনামূল্যে বিতরণ ব্যবসায়ীদের আরও ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
পুরানবাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেনের মতে, আলু ভালো অবস্থায় থাকাকালীন বাজারজাত করা হলে অন্য জেলা থেকে আলু আনার প্রয়োজন পড়ত না। নষ্ট হওয়া আলুর পরিমাণ এত বেশি যে তা দিয়ে একটি পুরো মৌসুম চলে যেত।
অন্যদিকে, মাদারীপুর জেলার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেছেন, হিমাগারের মালিক ব্যক্তিগতভাবে এসব আলু সংরক্ষণ করেছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। পচা আলু বিনামূল্যে বিতরণ করায় খোলাবাজারে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। স্থানীয় বাজারগুলোতে আলুর সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।




