চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এর পরিচালনাভার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে এই ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মূলত ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী পরিকল্পিত অবস্থান কর্মসূচিকে সফল করার লক্ষ্যেই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার সভায় জানান, বন্দরের যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে গেছে বলে কর্তৃপক্ষের যে দাবি, তা ভিত্তিহীন। তিনি উল্লেখ করেন, এনসিটির জন্য প্রয়োজনীয় গ্যান্ট্রি ক্রেন ও টায়ার-মাউন্টেড ক্রেন ইতিমধ্যে প্রয়োজনমতো ক্রয় করে রাখা হয়েছে। এমনকি কোনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে তার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত সরঞ্জামও মজুত আছে, তাই সক্ষমতার কোনো অভাব নেই।

অন্যদিকে, কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন এনসিটি ইজারা দেওয়ার ফলে দেশের কী লাভ বা ক্ষতি হবে, তা জনগণের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তিনি এই বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় অর্থনীতি এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থের সাথে বন্দরের ব্যবস্থাপনা জড়িত। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় শ্রমিকদের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সরকার যেন দুর্বলতা হিসেবে না দেখে; অন্যথায় দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন তারা।

সভায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, ৫ অক্টোবরের কর্মসূচি সফল হলে সরকার ও কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে যে, ইজারা চুক্তি কার্যকর হলে চট্টগ্রাম বন্দর যেকোনো সময় অচল হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম মন্তব্য করেন, দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড আসলে কোনো অলৌকিক উপায়ে সক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারবে না, কারণ বর্তমান অবস্থানে পরিধি বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত।

উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের আলোচনা চলছে। গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এই আলোচনার নির্দেশ দিয়েছিল এবং জুলাই মাসে বন্দর চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন যে, দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো এই প্রক্রিয়ার বিরোধী। আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি মেনে নেওয়া হলে কর্মসূচি আগে শেষ হবে, অন্যথায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সভায় টিইউসি, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন, বিএফটিইউসি এবং বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন এবং সর্বস্তরের শ্রমিকদের এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।