দক্ষিণ কোরিয়ার সুওন শহরের আজু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ২০২৬’-এ খাবার ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গাওন লনে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য উৎসবে বিশ্বের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বিশেষ খাবার নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন। পুরো উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ফুড ফেস্টিভ্যাল’, যেখানে বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রদর্শনী ও পরিবেশন করা হয়। এই প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনে প্রথম স্থান অধিকার করায় দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয়।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে একটি বুথ সাজিয়ে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলেন। সেখানে পরিবেশন করা হয় বিরিয়ানি, ফুচকা, রসমালাই এবং মিষ্টি পুডিংসহ আরও অনেক দেশীয় পদ। এই বৈচিত্র্যময় খাবারের মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরা হয়। এই আয়োজনের একটি বিশেষ দিক ছিল এর অর্থায়ন; কোনো কোম্পানি কিংবা রেমিট্যান্স প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে তারা নিজেদের সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করেন।

অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও উৎসাহ আয়োজনের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়। ওইদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া festivities-এ শুধু খাদ্য উৎসবই নয়, বরং দলীয় খেলাধুলা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিকেলের দিকে দিনের সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হয়।