প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিশুসাহিত্যিক, গীতিকবি ও নাট্যকার আখতার হুসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক নাগরিক শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার দাদা ভাই সম্মেলনকক্ষে তাঁর স্বজনদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের প্রবীণ ও নবীন নেতা-কর্মী এবং শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত আখতার হুসেনের স্মৃতির প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শিল্পী মাশুক হেলালের আঁকা তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর খেলাঘর, উদীচী ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি’ গান পরিবেশিত হয়। কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের চেয়ারপারসন কাজী মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা ও স্মৃতিচারণা পর্বে কথা বলেন উপস্থিত বক্তারা। অনুষ্ঠানে শিখা সেনগুপ্তা তাঁর জীবনী পাঠ করেন।

আলোচনা করতে গিয়ে উদীচীর একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম উল্লেখ করেন, ১৯৬৮ সালে উদীচীর গঠন পর্বে আখতার হুসেন যুক্ত ছিলেন। তিনি উদীচীর জন্য অনেক শক্তিশালী নাটক রচনা করেছেন, যা অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা বলেন, শিশুদের দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলির বিকাশে আখতার হুসেনের লেখা ও সাংগঠনিক কাজ অপরিসীম। নতুন প্রজন্মের সমৃদ্ধির জন্য তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আজিজ আখতার হুসেনের অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার কথা স্মরণ করে জানান, খেলাঘরকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। সভাপতির বক্তব্যে কাজী মোজাম্মেল হোসেন তাঁকে একজন সহজ-সরল ও আন্তরিক মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি সবার কাছে অত্যন্ত আপন ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার এবং খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রথীন চক্রবর্তী।

স্মরণসভার দ্বিতীয় অংশে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আখতার হুসেনের লেখা খেলাঘর ও ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীতসহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা’ সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয়। এছাড়া সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের শিল্পীরা ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ ও ‘তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম’ গানগুলো পরিবেশন করেন। যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় সৈয়দা রত্নার আবৃত্তির মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধার এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

উল্লেখ্য, প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখে যাওয়া নিবেদিতপ্রাণ এই সাহিত্যিক ও সংগঠক গত ২৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।