দীর্ঘপ্রতীক্ষিত লড়াই শেষে আবারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পরলেন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন চোটের কারণে এশিয়ান গেমসের দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর বিকল্প হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন আলিস। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রহস্য স্পিনারদের কার্যকারিতার কথা বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাশার জানান, আলিসের বোলিং অ্যাকশন ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশ জটিল এবং তিনি নিখুঁতভাবে দুই দিকেই বল ঘোরাতে পারেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আলিস আল ইসলামের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল নাটকীয়ভাবে। ২০১৯ সালে বিপিএলে অভিষেক ম্যাচেই ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে হ্যাটট্রিক করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সাফল্যের পর থেকেই তাঁর যাত্রা সহজ ছিল না। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। প্রথমবার পরীক্ষায় ত্রুটি না পাওয়া গেলেও, বোলিংয়ে আরও ধার বাড়াতে তিনি তাঁর অ্যাকশন পরিবর্তন করেন, যা অনেকটা সুনীল নারাইনের শৈলীর মতো ছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি পরীক্ষায় পাস করেন।
অ্যাকশনের পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গুরুতর চোট। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ডাক পেলেও আঙুলের চোটের কারণে অভিষেকের আগেই মাঠের বাইরে চলে যান তিনি। এরপর ২০২৫ সালের বিপিএল দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের সময় হাঁটুতে চোট পান। সুস্থ হতে মালয়েশিয়ায় অস্ত্রোপচার এবং দীর্ঘ এক বছরের কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়। স্ট্রেচার ও ক্রাচের লড়াই শেষে তিনি ধীরে ধীরে মাঠে ফিরে আসেন।
জাতীয় দলে ফেরার পথ প্রশস্ত করতে আলিস নিজেকে বদলেছেন কেবল বোলিংয়েই নয়, ফিল্ডিংয়েও। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ১০ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৩.৮৩ গড় রানে ২৪ উইকেট এবং বিপিএলে ৮ উইকেট নিয়ে নিজের ফর্ম প্রমাণ করেছেন তিনি। নির্বাচকরা তাঁর বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে উন্নতির দাবি জানিয়েছিলেন, যা আলিস সফলভাবে পূরণ করেছেন। প্রধান নির্বাচকের মতে, আলিস তাঁদের চাওয়া কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন বলেই তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় 'এ' দলের হয়ে ৩ উইকেট শিকার করে তিনি নিজের সক্ষমতা আরও একবার প্রমাণ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, এশিয়ান গেমস দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রত্যাবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় কি না।




