চীনের অর্থনীতির গতি ফেরাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আটটি ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিতে বিশাল অঙ্কের অর্থ ঢালছে বেইজিং। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই খাতে মোট ৩৬০ বিলিয়ন ইউয়ান (৫৩.৬ বিলিয়ন ডলার; ৩৯.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) প্রদান করা হচ্ছে বলে রোববার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন সক্ষমতা, ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষমতা এবং বাস্তব অর্থনীতিতে সেবা দেওয়ার সামর্থ্য আরও জোরদার করবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য দ্বন্দ্ব, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার সাম্প্রতিকতম প্রচেষ্টা এটি। এই প্যাকেজের আওতায় দেশটির তিনটি বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি বীমা কোম্পানি অর্থ পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং চায়না এক্সপোর্ট অ্যান্ড ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বলেছে, এই অর্থায়ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে আরও সম্পদ দেবে, যা তারা বাস্তব অর্থনীতিতে ঋণ হিসেবে সরবরাহ করতে পারবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে বাইরের ধাক্কা সহ্য করার সক্ষমতাও বাড়বে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক স্থিতিশীলতাকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে দেখে আসছেন।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন বেইজিং অর্থনীতির কাঠামো নতুন করে সাজাতে চাইছে। সঙ্কুচিত কর্মশক্তি, বছরের পর বছর ধরে চলমান আবাসন খাতের মন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দেশটি। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়েছে। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়ায় দেশটির শক্তিশালী রপ্তানি পরিসংখ্যানও ছাপিয়ে গেছে এই নেতিবাচক দিকগুলো।

জুলাই মাসে প্রকাশিত সরকারি জিডিপি তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি ৪.৩ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা সরকারের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ শতাংশ। এ অবস্থায় মার্চ মাসে বেইজিং প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনে — ১৯৯১ সালের পর এটি দেশটির সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ লক্ষ্য। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বেইজিং আগে থেকেই থাকা অর্থনৈতিক দুর্বলতা স্বীকার করার জায়গা পেয়েছে।