চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালের প্রশস্ততা বাড়ানোর কাজ চলাকালীন দুটি বহুতল ভবনের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে চরম অসামঞ্জস্যের ঘটনা সামনে এসেছে। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত 'কনকচাঁপা' ও 'বাদশা নূরী' নামের দুটি ১০ তলা ভবন এই প্রকল্পের জন্য অপসারণ করতে হবে। তবে গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত স্থাপনার মূল্যে দেখা গেছে অদ্ভুত বৈপরীত্য।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্মিত কনকচাঁপা ভবনটির আয়তন ৫৪ হাজার ২৭৫ বর্গফুট এবং এতে ২৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এই পুরোনো ভবনের স্থাপনা মূল্য ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০১৩ সালে নির্মিত বাদশা নূরী ভবনটি আয়তনে আরও বড় (৫৮ হাজার ২০০ বর্গফুট) এবং এতে ফ্ল্যাটের সংখ্যাও বেশি (৩৬টি)। তা সত্ত্বেও এই নতুন ও বড় ভবনটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা কনকচাঁপা ভবনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। দুই ভবনের মূল্যের এই ব্যবধান ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার বেশি।
আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। সেই হিসেবে কনকচাঁপা ভবনের জন্য প্রায় ৩৭ কোটি ৬১ লাখ এবং বাদশা নূরী ভবনের জন্য ১৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ৫৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-র আশঙ্কা, এভাবে ব্যয় হলে প্রকল্পের বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হবে। উল্লেখ্য, পুরো প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভবনের জন্য মোট ১৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, অথচ মাত্র দুটি ভবনেই তার একতৃতিয়াংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।
মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ভিন্নতার অভিযোগ এনেছে সিডিএ। তাদের দাবি, কনকচাঁপা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য আলাদাভাবে ধরা হয়েছে, যেখানে বাদশা নূরী ভবনের জন্য সামগ্রিক একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কনকচাঁপা ভবনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা, পাম্প এবং টেলিফোন সেট সরেজমিনে পাওয়া যায়নি, কিন্তু সেগুলোর মূল্যও মূল্যায়নের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ সিডিএ-র।
তবে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের দাবি, তারা সরবরাহকৃত নকশা এবং বর্তমান রেট শিডিউল অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করেছেন, তাই এতে কোনো ত্রুটি নেই। তারা জানান, পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য চাইলে সিডিএ তা প্রদান করেনি। অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন এই অসামঞ্জস্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং যৌক্তিক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। এর আগেও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় একটি ভবনের মূল্য পুনর্মূল্যায়নের পর ৫৬ লাখ টাকা থেকে কমে ৭ লাখ টাকায় নেমে এসেছিল, যা সিডিএ-র বর্তমান দাবির পক্ষে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের কাজ চলছে। হিজড়া খালের বর্তমান ১২ ফুট প্রশস্ততা বাড়িয়ে ২৭ ফুট করা এবং পাশে ১৫ ফুটের একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। জমি অধিগ্রহণ ও অর্থ বরাদ্দের জটিলতা কাটিয়ে বর্তমানে এই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।




