ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রীতি গ্রুপের এফএনএফ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে, এতে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সাতজন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন, যাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নিহতদের একজন হলেন সবজি বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম। ঘটনার সময় তিনি কারখানার পাশেই ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করছিলেন। আগুনের ফুলকি তার মাথায় লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে স্থানীয় একটি নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নজরুলের ছেলে সামিউল জানান, তাদের বাসা থেকে কারখানাটি দেখা যায়। সন্ধ্যার পর জানালা দিয়ে আগুন দেখতে পেয়ে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখানে গিয়ে দেখেন দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। বাবাকে না পেয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আগুনে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। নজরুলের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলার মীরবাড়ি এলাকায় থাকতেন।
এ ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তি হলেন নুরুল ইসলাম (৪০)। তিনি ওই কারখানার গ্যাসের গাড়ির চালক। বর্তমানে তিনি বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার বাড়ি খুলনায়। আহত অপর দুজন হলেন মোখলেছুর রহমান (৪৫) ও তার ছেলে সুজন মিয়া (১৮)। তারা দুজনই সবজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মোখলেছুরের স্থায়ী ঠিকানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। তারা আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতা এলাকায় থাকতেন।
ঘটনার সময় nearby এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পরপর দুটি বিকট শব্দ শুনতে পান। প্রথমে মনে হয়েছিল ককটেল বা বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে নিচে নেমে দেখেন পাশের কারখানায় আগুন জ্বলছে। তখন সবাই বলাবলি করছিল, বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। আহত অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে মোটরসাইকেলে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় পাঠান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়া থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর পরই কারখানা এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




